পাসওয়ার্ড নয় এখন ভরসা পাসকী, জেনেনিন কীভাবে নিরাপত্তা দেবে এই ফিচার?

বর্তমান ডিজিটাল যুগে অনলাইন অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দিন দিন বেড়েই চলেছে। পাসওয়ার্ড চুরি, ফিশিং আক্রমণ (Phishing) এবং হ্যাকিংয়ের ঝুঁকি এড়াতে বিশ্বের বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলি এখন গতানুগতিক পাসওয়ার্ড বাদ দিয়ে সর্বাধুনিক ‘পাসকী’ (Passkey) প্রযুক্তির ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিচ্ছে। ইতিমধ্যেই গুগল (Google), অ্যাপল (Apple) এবং মাইক্রোসফটের (Microsoft) মতো টেক জায়ান্টগুলি তাদের বিভিন্ন প্রধান সেবায় পাসকী সমর্থন চালু করে দিয়েছে।

১. পাসকী (Passkey) আসলে কী?

পাসকী হলো একটি অত্যন্ত আধুনিক এবং সুরক্ষিত লগইন পদ্ধতি, যেখানে ইউজারদের প্রচলিত কোনো কঠিন পাসওয়ার্ড মনে রাখার বা বারবার টাইপ করার কোনো প্রয়োজন হয় না। এর পরিবর্তে ব্যবহারকারীর নিজস্ব ডিভাইসের বিল্ট-ইন নিরাপত্তা ব্যবস্থা—যেমন ফিঙ্গারপ্রিন্ট (Fingerprint), ফেস আইডি (Face ID) অথবা ডিভাইসের সিকিউরিটি পিন ব্যবহার করে ডিজিটাল পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।

২. পাসকী কেন প্রচলিত পাসওয়ার্ডের চেয়ে অনেক বেশি নিরাপদ?

সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, পাসকী ব্যবহার করলে ফিশিং আক্রমণ এবং পাসওয়ার্ড চুরির ঝুঁকি প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে আসে। এর মূল কারণগুলি হলো:

  • এখানে কোনো প্রচলিত পাসওয়ার্ড কোনো রিমোট সার্ভারে সংরক্ষিত থাকে না।

  • ফলে ডেটা ব্রিচ বা হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে হ্যাকারদের পক্ষে ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্টে বেআইনিভাবে প্রবেশ করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে।

৩. কোথায় কোথায় ব্যবহার করা যায় এই প্রযুক্তি?

বর্তমানে গুগল অ্যাকাউন্ট, অ্যাপল আইডি, মাইক্রোসফট অ্যাকাউন্ট, হোয়াটসঅ্যাপ, অ্যামাজন, পেপল এবং গিটহাব-এর মতো বিশ্বের বহু জনপ্রিয় অনলাইন সেবায় পাসকী ব্যবহারের দুর্দান্ত সুযোগ রয়েছে। এমনকি বর্তমানে বাংলাদেশেও বিকাশ, নগদ এবং বিভিন্ন ব্যাংকের মোবাইল ও ডিজিটাল ব্যাংকিং অ্যাপ তাদের নিরাপত্তা আরও সুদৃঢ় করতে পাসকী বা পাসকী-ভিত্তিক বায়োমেট্রিক লগইন ব্যবস্থা চালু করেছে বা ধাপে ধাপে যুক্ত করছে। এর ফলে গ্রাহকরা পাসওয়ার্ড মনে রাখার ঝামেলা ছাড়াই ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা ফেস আইডির মাধ্যমে অতি দ্রুত এবং নিরাপদে অ্যাকাউন্ট অ্যাক্সেস করতে পারছেন।

৪. কীভাবে আপনার অ্যাকাউন্টে পাসকী চালু করবেন?

যে সমস্ত অ্যাপ বা ওয়েবসাইটে পাসকী প্রযুক্তি সমর্থন করে, সেখানে এই সহজ কয়েকটি ধাপ অনুসরণ করে এটি সেটআপ করা যায়:

  • প্রথমে সংশ্লিষ্ট অ্যাপ বা ওয়েবসাইটের অ্যাকাউন্টের Security বা নিরাপত্তা সেটিংসে যান।

  • সেখানে থাকা ‘Create Passkey’ অথবা ‘Set up Passkey’ অপশনটি নির্বাচন করুন।

  • এরপর আপনার ফোন বা কম্পিউটারের ফিঙ্গারপ্রিন্ট, ফেস আইডি অথবা ডিভাইসের পিন কোড ব্যবহার করে নিজের পরিচয় ভেরিফাই করুন।

  • পাসকী সফলভাবে তৈরি হয়ে গেলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপনার ডিভাইসের পাসওয়ার্ড ম্যানেজারে সংরক্ষিত হয়ে যাবে।

এরপর থেকে সমর্থিত ডিভাইসে আর কোনো পাসওয়ার্ড দেওয়ার ঝামেলা থাকবে না; কেবল আঙুলের ছাপ, মুখাবয়ব বা পিন ব্যবহার করেই আপনি নিমেষে লগইন করতে পারবেন।

৫. ভবিষ্যতের লগইন ব্যবস্থা

প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের জোরালো ধারণা, আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই পাসকী প্রযুক্তি প্রচলিত পুরনো পাসওয়ার্ডের জায়গা নিয়ে বিশ্বব্যাপী আরও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়বে। এটি ব্যবহারকারীদের যেমন চরম স্বস্তি দেবে, তেমনই সামগ্রিক অনলাইন নিরাপত্তাকেও বহুগুণ শক্তিশালী করবে।

তবে মনে রাখা দরকার, পাসকী ব্যবহার করলেও নিজের ডিভাইসের সামগ্রিক নিরাপত্তা বজায় রাখা, নিয়মিত সফটওয়্যার আপডেট করা এবং কোনো ধরনের সন্দেহজনক লিংকে ক্লিক না করার মতো মৌলিক সতর্কতাগুলি সবসময় মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *