সুপ্রিম কোর্টের মেগা স্বস্তি! অভিষেকের পিএ সুমিত রায়কে শর্তসাপেক্ষ রক্ষাকবচ শীর্ষ আদালতের

জমি-দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতারির চরম আশঙ্কা এড়িয়ে শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সাময়িক স্বস্তি পেলেন সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্ত সহায়ক (PA) সুমিত রায়। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বিশেষ বেঞ্চ শর্তসাপেক্ষে সুমিত রায়কে গ্রেফতারি থেকে অন্তর্বর্তীকালীন রক্ষাকবচ প্রদান করেছে। তবে শীর্ষ আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ, তদন্তের স্বার্থে তাঁকে সমস্ত রকমভাবে সহযোগিতা করতে হবে।
সলিসিটর জেনারেলের বিস্ফোরক দাবি ও আদালতের পর্যবেক্ষণ
বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টে এই মামলার শুনানিতে রাজ্যের তরফে উপস্থিত ছিলেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। তিনি আদালতকে জানান যে, অভিযুক্ত সুমিত রায়কে জেরা করার জন্য সরাসরি গ্রেফতার করা অত্যন্ত প্রয়োজন। এমনকি, এর আগে তৎকালীন বা পূর্বতন এক মুখ্যমন্ত্রীর মদতে সুমিত রায়ের গ্রেফতারিতে বাধা দেওয়া হয়েছিল বলেও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ আদালতের নজরে আনেন তিনি।
শুনানি চলাকালীন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত প্রশ্ন করেন যে, পুলিশই কি মূল সমস্যার কারণ— এমনটাই কি বলতে চাওয়া হচ্ছে? এর জবাবে তুষার মেহতা জানান,
“যখনই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে যাওয়া হয়েছে, তখনই বাধা দেওয়া হয়েছে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী নিজেই বাধা দিয়েছেন।”
উভয় পক্ষের সওয়াল-জবাব শোনার পর সর্বোচ্চ আদালত নির্দেশ দেয় যে, আবেদনকারী সুমিত রায়কে তদন্তে সমস্ত রকমভাবে সহযোগিতা করতে হবে এবং আপাতত তাঁর গ্রেফতারির ওপর স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে।
হাইকোর্টে ধাক্কা ও সুপ্রিম কোর্টের শরণাপন্ন হওয়া
এর আগে জমি-দুর্নীতি মামলায় আগাম রক্ষাকবচ পেতে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন সুমিত রায়। গত সোমবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ তাঁর সেই আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে দেন। তবে অন্য একটি চাকরি-দুর্নীতির মামলায় শর্তসাপেক্ষে তাঁর আগাম জামিন মঞ্জুর করেছিলেন বিচারপতি।
হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল যে, চাকরি-দুর্নীতি মামলায় আগামী ১০ দিনের মধ্যে তদন্তকারী কর্মকর্তার অফিসে হাজিরা দিতে হবে সুমিতকে। পরবর্তীতে তদন্তকারীরা তলব করলে তাঁকেও হাজিরা দিতে হবে। কিন্তু এই হাজিরা দিতে গেলেই জমি-দুর্নীতি মামলার সূত্রে তাঁকে কেন্দ্রীয় এজেন্সি গ্রেফতার করতে পারে— এই আশঙ্কায় শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন তিনি। শীর্ষ আদালতের এই অন্তর্বর্তী সুরক্ষায় আপাতত বড় স্বস্তি পেলেন অভিষেক ঘনিষ্ঠ সুমিত রায়।