ঠোঁটের ভেতরে গজিয়ে চলেছে দাঁড়ি! জবলপুরের ভুল চিকিৎসায় রোগীর জীবন অতিষ্ঠ, দুয়ারে দুয়ারে ঘুরেও মেলেনি বিচার

সাধারণত মুখের দাড়ি বা গোঁফ মানুষের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করলেও, যদি কখনো এমন হয় যে আপনার মুখের ভেতরে অর্থাৎ ঠোঁটের বা গালের অন্দরে চুল গজাতে শুরু করেছে, তবে প্রতিদিনের খাবার খাওয়ার অভিজ্ঞতা কেমন হতে পারে? শুনতে কাল্পনিক বা সিনেমার গল্প মনে হলেও, মধ্যপ্রদেশের জবলপুরে বাস্তবে ঘটে চলেছে এমনই এক মর্মান্তিক ঘটনা। ভুল চিকিৎসাপদ্ধতি এবং চিকিৎসকের চরম গাফিলতির কারণে গত দুই বছর ধরে মুখের ভেতরে অবিরাম চুল গজানোর সমস্যায় ধুঁকছেন এক ব্যক্তি।

ঠিক কী ঘটেছিল?
মধ্যপ্রদেশের জবলপুরের আধারতালের ৫৬ বছর বয়সী বাসিন্দা মুকেশ কুমার পেশায় একজন সামান্য সবজি বিক্রেতা। তাঁর মুখেই এই অদ্ভুত ও ভয়ংকর ঘটনা ঘটেছে। ২৭ মাস আগে মুকেশের গালের ভেতরের দিকে একটি ছোট ফোসকা দেখা দিয়েছিল, যা ধীরে ধীরে বড় হতে শুরু করে। তিনি বেশ কয়েকজন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পর বায়োপসি করান। রিপোর্ট আরও কিছুটা উদ্বেগজনক হওয়ায় তিনি মেডিকেল কলেজের ক্যান্সার হাসপাতালের ডাক্তার অর্পণ মিশ্রের একটি ব্যক্তিগত ক্লিনিকে যোগাযোগ করেন।

ভুক্তভোগী মুকেশের অভিযোগ:

টাকা নেওয়ার জালিয়াতি: অপারেশনের আগের দিন তাঁর কাছ থেকে কোনো রসিদ না দিয়ে নগদ ৭৫,০০০ টাকা নেওয়া হয় এবং বাকি টাকা তাঁর আয়ুষ্মান কার্ডের মাধ্যমে কেটে নেওয়া হয়।

ভুল চামড়া প্রতিস্থাপন: চিকিৎসকরা তাঁকে জানিয়েছিলেন যে ঠোঁটের ভেতরের ক্ষতিগ্রস্ত চামড়া কেটে বাদ দেওয়া হবে। কিন্তু অস্ত্রোপচারের সময় ওই জায়গায় তাঁর চিবুকের বা দাড়ির চামড়া প্রতিস্থাপন করা হয়, যেখানে স্বাভাবিকভাবেই চুল জন্মায়। অথচ চিকিৎসকরা বিষয়টি আগে থেকেই জানতেন।

অপারেশনের সময় কারসাজি: অপারেশনের মাত্র ১৫ মিনিট আগে তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে কিছু কাগজ দিয়ে তাতে সই করতে বাধ্য করা হয় এবং এরপর তাঁকে ঘুমের ওষুধ দিয়ে অচেতন করে ফেলা হয়। সরকারি মেডিকেল কলেজে ভিড়ের অজুহাত দেখিয়ে তাঁকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে অপারেশন করাতে বাধ্য করা হয়েছিল।

গত দুই বছর ধরে যন্ত্রণার জীবন
অস্ত্রোপচারের পর থেকেই মুকেশের মুখের ভেতরে ক্রমাগত চুল গজাতে শুরু করে। এর ফলে তাঁর পক্ষে খাবার খাওয়া, জল পান করা বা স্বাভাবিকভাবে কথা বলা চরম কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ত্রুটিপূর্ণ চিকিৎসার প্রতিকার খুঁজতে তিনি মুম্বাইয়ের টাটা মেমোরিয়াল হাসপাতাল এবং ভোপালের এইমস (AIIMS)-এও গিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানকার চিকিৎসকরা অস্ত্রোপচার করতে অপারগতা প্রকাশ করেন। একজন প্লাস্টিক সার্জন তাঁকে লেজার চিকিৎসার পরামর্শ দিলেও প্রতি সেশনের খরচ ১২,০০০ থেকে ১৫,০০০ টাকা এবং তাতেও মাত্র ৫০% চুল দূর হওয়ার সম্ভাবনা জানানো হয়। একজন গরিব সবজি বিক্রেতার পক্ষে এই ব্যয়বহুল চিকিৎসা করানো সম্পূর্ণ অসম্ভব।

পুলিশের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ
গত দুই বছর ধরে মুকেশ মদন মহল থানা এবং পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে বারবার ঘুরেও কোনো আইনি সহায়তা পাননি। অভিযুক্ত চিকিৎসক প্রভাবশালী হওয়ার কারণেই পুলিশ কোনো পদক্ষেপ করছে না বলে তাঁর অভিযোগ। সম্প্রতি পুলিশ সুপারের গণশুনানিতে অংশ নিতে গেলেও তাঁর অভিযোগ না শুনেই তাঁকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। বর্তমানে ন্যায়বিচার এবং সুচিকিৎসার আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এই দুর্ভাগা ব্যক্তি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *