প্রয়াত বিএসপির একমাত্র বিধায়ক উমাশঙ্কর সিং! দীর্ঘ অসুস্থতার পর তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করলেন মায়াবতী

উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এবং বহুজন সমাজ পার্টির (BSP) সুপ্রিমো মায়াবতী তাঁর দলের একমাত্র বিধায়ক উমাশঙ্কর সিংয়ের প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি এক শোকবার্তায় অত্যন্ত আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “উমাশঙ্কর আমাদের দলের একজন সত্যিকারের নিবেদিতপ্রাণ নেতা ছিলেন। তিনি সারাজীবন সততার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন এবং আমাকে নিজের বোনের মতোই মনে করতেন।” দিল্লির একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৫৬ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন উত্তরপ্রদেশের বালিয়া জেলার রাসরা বিধানসভা কেন্দ্রের এই প্রভাবশালী নেতা।
সততা ও নিষ্ঠার প্রতীক ছিলেন উমাশঙ্কর: মায়াবতী
বিএসপি প্রধান মায়াবতী প্রয়াত বিধায়ককে শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন যে, বহুজন সমাজ পার্টিতে যোগদানের পর থেকেই উমাশঙ্কর সিং সম্পূর্ণ সততা, নিষ্ঠা এবং অবিচল আনুগত্যের সঙ্গে দলের সেবা করে গেছেন। তাঁকে দল থেকে যে দায়িত্বই অর্পিত হয়েছে, তিনি তা অত্যন্ত বিশ্বস্ততার সঙ্গে পালন করেছেন।
তাঁর সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথা স্মরণ করে মায়াবতী আরও জানান, সরকার বদল হয়েছে, রাজনৈতিক নানা উত্থান-পতন ঘটেছে, কিন্তু কঠিন সময়েও উমাশঙ্কর কখনও দলের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেননি। তাঁর পুরো পরিবারটিই সর্বদা বিএসপি পরিবারের মতো পাশে থেকেছে এবং তাঁকে সবসময় বড় বোনের মতো সর্বোচ্চ সম্মান ও মর্যাদা দিয়ে এসেছে। এই অপূরণীয় ক্ষতিতে মায়াবতী শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
ছাত্ররাজনীতি থেকে বিধায়ক: এক নজরে উমাশঙ্কর সিংয়ের রাজনৈতিক সফর
শিক্ষানবিস জীবন ও সূচনা: উমাশঙ্কর সিং তাঁর রাজনৈতিক জীবন শুরু করেছিলেন একজন তুখোড় ছাত্রনেতা হিসেবে। ১৯৯০-৯১ সালে তিনি বালিয়ার সতীশচন্দ্র কলেজের ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।
বিধানসভায় প্রবেশ: ২০১২ সালের উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনে তিনি প্রথমবার বালিয়ার রাসরা আসন থেকে জয়লাভ করে বিধায়ক হন।
ধারাবাহিক সাফল্য: এর পরবর্তীতে ২০১৭ এবং ২০২২ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও রাসরা কেন্দ্র থেকে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে তিনি বিধায়কের দায়িত্ব পালন করেন।
দীর্ঘদিন ধরে গুরুতর অসুস্থ থাকার পর বুধবার রাতে দিল্লির এক হাসপাতালে তাঁর জীবনাবসান হয়। তাঁর মৃত্যুতে তিনি এক পুত্র ও এক কন্যা সন্তান রেখে গেছেন। উত্তরপ্রদেশে বিএসপির একমাত্র বিধায়কের এই আকস্মিক প্রয়াণে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।