সিলিন্ডার প্রতি একলাফে ১৮ টাকা দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা, পকেটে টান পড়তে চলেছে সাধারণ মানুষের

সাধারণ মানুষের রান্নাঘরের খরচে ফের বাড়তে চলেছে টান। সূত্রের খবর, রান্নার গ্যাস (LPG) ও প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের কথা গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছে কেন্দ্রীয় সরকার। এই প্রস্তাব কার্যকর হলে এক ধাক্কায় প্রতি সিলিন্ডারে প্রায় ১৮ টাকা পর্যন্ত দাম বাড়তে পারে।
৪২ বিলিয়ন ডলারের জ্বালানি মজুত গড়ার পরিকল্পনা
আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে প্রায় ৪২ বিলিয়ন ডলারের বিশাল জ্বালানি মজুত গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে মোদী সরকার। সাম্প্রতিক সময়ে ইরান-ইজরায়েল সংঘাতের জেরে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন এবং হু হু করে আমদানি খরচ বেড়ে যাওয়ার পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এই প্রস্তাব যদি শেষ পর্যন্ত সরকারি অনুমোদন পায়, তবে ইতিহাসে এই প্রথম ভারতের কৌশলগত জ্বালানি মজুত কর্মসূচির আওতায় শুধুমাত্র অপরিশোধিত তেল নয়, বরং তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) এবং রান্নার গ্যাস (LPG)-কেও অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
গ্যাসের দাম ঠিক কত বাড়তে পারে?
পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের প্রস্তাব অনুযায়ী:
-
প্রতি কেজি LPG-তে ১.২৯ টাকা অতিরিক্ত শুল্ক বসানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
-
এর ফলে সাধারণ গৃহস্থালীর একটি ১৪.২ কেজির LPG সিলিন্ডারের দাম প্রায় ১৮ টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে। শুধুমাত্র এই শুল্ক বাবদ বার্ষিক প্রায় ৪৬০ মিলিয়ন ডলার রাজস্ব আদায় হতে পারে।
-
অন্যদিকে, প্রাকৃতিক গ্যাসের ক্ষেত্রে প্রতি স্ট্যান্ডার্ড কিউবিক মিটার (SCM)-এ ১.৪৩ টাকা শুল্কের প্রস্তাব রয়েছে, যা থেকে বছরে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করা সম্ভব।
আগামী ১০ বছর ধরে মোট ৪২ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে এই প্রকল্প রূপায়িত হবে। যার একটি বড় অংশ খরচ হবে আধুনিক সংরক্ষণাগার নির্মাণ এবং জ্বালানি মজুত করতে। এই পরিকল্পনা সফল হলে দেশের কাছে দুই মাসের চাহিদা মেটানোর মতো অপরিশোধিত তেল ও LNG এবং প্রায় ছয় সপ্তাহের LPG মজুত রাখা সম্ভব হবে।
প্রকল্প কীভাবে অর্থায়ন করা হবে?
জানা গিয়েছে, অপরিশোধিত তেলের কৌশলগত মজুতের খরচ সরকার বহন করলেও, LPG ও প্রাকৃতিক গ্যাসের সংরক্ষণাগার নির্মাণের যাবতীয় অর্থ আসবে গ্রাহকদের কাছ থেকে সংগৃহীত এই অতিরিক্ত শুল্কের মাধ্যমেই।
তবে স্বস্তির বিষয় হলো, এই প্রস্তাবটি এখনও বিভিন্ন মন্ত্রকের পর্যালোচনার পর্যায়ে রয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মন্ত্রিসভা এখনও এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিলমোহর দেয়নি। তা সত্ত্বেও এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে গৃহস্থালির মাসিক গ্যাসের বিল গড়ে প্রায় ২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে।