দরজা খুলে অকথ্য ভাষায় চিৎকার! সঞ্জয় লীলা ভন্সালীর ছবির জন্য দীপিকাকে কোন কঠিন পরীক্ষার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছিল?

বিনোদন জগতে অভিনেত্রী দীপিকা পাড়ুকোন (Deepika Padukone) বরাবরই তাঁর মার্জিত আচরণ, ব্যক্তিত্ব এবং মিষ্টি ব্যবহারের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। পর্দায় হোক বা বাস্তবে, তাঁর শান্ত স্বভাব সব সময়ই অনুরাগীদের মন জয় করে নেয়। কিন্তু আপনি কি জানেন, এই শান্ত স্বভাবের দীপিকাই একসময় শুটিংয়ের খাতিরে সবার সামনে মুখ খুলে দেদার গালাগাল দিয়েছিলেন? সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সেই অজানা ও চমকে দেওয়া ঘটনার স্মৃতিচারণা করেছেন তাঁরই সহ-অভিনেত্রী জয়তী ভাটিয়া।
ঘটনাটি পরিচালক সঞ্জয় লীলা ভন্সালীর ব্লকবাস্টার ছবি ‘গোলিয়োঁ কী রাসলীলা রাম-লীলা’ (Goliyon Ki Rasleela Ram-Leela)-র শুটিং শুরুর আগের সময়ের। ছবিটির চরিত্র ও তার উপযুক্ত আবেগ ফুটিয়ে তোলার জন্য দীপিকাকে বিশেষ ওয়ার্কশপের মধ্যে দিয়ে যেতে হচ্ছিল।
কেন দীপিকাকে গালাগাল দিতে বলা হয়েছিল? অভিনেত্রীকে তাঁর ভিতরের আড়ষ্টতা এবং সংযমের খোলস থেকে পুরোপুরি বের করে আনার জন্য টানা সাত দিন ধরে প্রতিদিন চার ঘণ্টা করে ওয়ার্কশপ করানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল জয়তী ভাটিয়ার ওপর। তবে দীপিকার একাগ্রতা ও নিষ্ঠা দেখে জয়তী পরিচালককে জানান যে বেশি দিন ওয়ার্কশপের দরকার নেই, কারণ দীপিকা নিজেই খুব দ্রুত চরিত্রের উপযোগী হয়ে উঠছেন।
তবে ওই ওয়ার্কশপের দিনগুলিতেই চরিত্রের তাগিদে এক অদ্ভুত নির্দেশ দেওয়া হয় দীপিকাকে। ক্যামেরার সামনে চরিত্রটিকে আরও জীবন্ত ও সংকোচহীন করে তোলার জন্য তাঁকে মন খুলে উচ্চস্বরে গালাগাল দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। খোদ জয়তী নিজেও সচরাচর গালাগাল দিতে অভ্যস্ত নন, তবুও দীপিকাকে শেখানোর জন্য তাঁকে প্রথমে নিজে সেই কায়দা দেখাতে হয়েছিল।
বারান্দায় দাঁড়িয়ে দীপিকার সেই রূপ: এরপর যা ঘটেছিল, তা দেখে তাজ্জব হয়ে যান সকলে। জয়তীদের অফিসের নীচে এক খাবার বিক্রেতা বসতেন। দীপিকাকে বলা হয় বারান্দায় গিয়ে নীচের দিকে না তাকিয়ে সোজা সামনে তাকিয়ে জোরে জোরে গালাগাল দিতে। নির্দেশ পাওয়া মাত্রই কাজে নেমে পড়েন দীপিকা।
সেই ঘটনার বর্ণনা দিয়ে জয়তী জানান, “দরজা খুলে দাঁড়িয়ে একের পর এক এমন সব গালাগাল উগরে দিতে শুরু করলেন দীপিকা, যা আমি আগে কখনও শুনিনি। আমি থামাতে বলা সত্ত্বেও ও থামছিল না। মুখে যা আসছিল, সব বলে যাচ্ছিল।” দীপিকার সেই অপ্রতিরোধ্য ও খোলামেলা অভিনয় দক্ষতা এবং চরিত্রের প্রতি শতভাগ সমর্পণের বিষয়টি আজও জয়তীর মনে স্পষ্ট ও স্মরণীয় হয়ে রয়েছে।