“৫ ঘণ্টা উধাও মোদীর ভিডিও!”-ভারতে Facebook কি ব্যান করাও হতে পারে?

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়া থেকে হঠাৎ কিছু সময়ের জন্য সরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় চরমে উঠেছে কেন্দ্র বনাম মেটা (Meta) দ্বন্দ্ব। এই ঘটনার পর থেকেই ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মাদার কোম্পানির ওপর চাপ বাড়াতে শুরু করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলিকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ভারতের মাটিতে ব্যবসা করতে হলে দেশের আইন কঠোরভাবে মেনেই চলতে হবে।
মেটা আধিকারিকদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক
এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই বুধবার কেন্দ্র ও মেটার উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের মধ্যে প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে মেটার প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন চিফ গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স অফিসার জোয়েল কাপলান, ভাইস প্রেসিডেন্ট নিল পটস প্রমুখ। অন্যদিকে সরকারের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের সচিব এস কৃষ্ণণ।
সূত্রের খবর, বৈঠকে মেটার পক্ষ থেকে দাবি করা হয় যে, একটি ‘প্রযুক্তিগত ত্রুটির’ কারণে ভুলবশত প্রধানমন্ত্রীর ভিডিওটি প্ল্যাটফর্ম থেকে সাময়িকভাবে সরে গিয়েছিল। পরবর্তীতে তা পুনরুদ্ধার করা হয় এবং সংস্থার পক্ষ থেকে ক্ষমাও চাওয়া হয়েছে। তবে এই ব্যাখ্যায় পুরোপুরি সন্তুষ্ট নয় কেন্দ্র। সরকারের পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হয়, কীভাবে দেশের প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও এত দ্রুত সরিয়ে ফেলা হলো, অথচ বহু আপত্তিকর ও ক্ষতিকর কনটেন্ট দীর্ঘক্ষণ প্ল্যাটফর্মে বহাল থাকে।
মার্ক জুকারবার্গকে ৩ দিনের ডেডলাইন
এদিকে, তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির তরফ থেকে মেটা সিইও মার্ক জুকারবার্গকে প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার জন্য ৩ দিনের কড়া ডেডলাইন বেঁধে দেওয়া হয়েছে। কমিটির সাফ বার্তা— নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব বা ক্ষমা না চাওয়া হলে, মেটার আইনি সুরক্ষা অর্থাৎ ‘সেফ হারবার’ (Safe Harbour) সুবিধা কেড়ে নেওয়া হতে পারে।
সেফ হারবার কী? তথ্যপ্রযুক্তি আইনের (IT Act) ৭৯ ধারা অনুযায়ী সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলিকে (যেমন ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, এক্স) এই আইনি সুরক্ষা দেওয়া হয়। এর ফলে ব্যবহারকারীদের পোস্ট করা কোনও কন্টেন্টের জন্য সরাসরি দায়ী থাকে না সোশাল মাধ্যমগুলি। কিন্তু সরকারি নিয়ম বা আইন ভঙ্গ করলে এই অনাক্রম্যতা বা আইনি সুরক্ষা বাতিল হতে পারে।
শিশু সুরক্ষা ও অন্যান্য গুরুতর অভিযোগ
শুধুমাত্র মোদীর ভিডিও সরানোর ঘটনাই নয়, সাম্প্রতিক বৈঠকে ইনস্টাগ্রামে শিশু যৌন শোষণ ও নির্যাতন সংক্রান্ত (CSAM) কন্টেন্ট এবং বিজ্ঞাপন প্রচারের মতো গুরুতর বিষয়গুলিও জোরালোভাবে উত্থাপন করে কেন্দ্র। সংসদীয় কমিটি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে যে, মহিলা ও শিশুদের সুরক্ষায় অবহেলা করলে বা বেআইনি কন্টেন্ট সরাতে ব্যর্থ হলে সোশাল মিডিয়া জায়ান্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিতে পিছপা হবে না সরকার।
ঠিক কী ঘটেছিল?
পরীক্ষা প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদের প্রেক্ষিতে যুব সমাজের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর একটি সেলফি ভিডিও ফেসবুকে পোস্ট করা হয়েছিল। অভিযোগ ওঠে, পোস্ট হওয়ার পর প্রায় ৫ ঘণ্টা ধরে সেই ভিডিওটি প্ল্যাটফর্মে দৃশ্যমান ছিল না। পরবর্তীতে তা ফিরিয়ে আনা হলেও এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক শোরগোল শুরু হয়, যা বর্তমানে এক বড় মাপের আইনি সংঘাতে রূপ নিয়েছে।