মমতার ‘প্ল্যান বি’তে কি তবে সূর্যমুখী? নেপথ্যে কোন নতুন রাজনৈতিক ছক?

তৃণমূল কংগ্রেস ভেঙে চুরমার হয়ে যাওয়ার গুঞ্জন এবং জোড়াফুল প্রতীক দখল নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে চলছে চরম জল্পনা। বিদ্রোহী ২০ জন তৃণমূল সাংসদের অন্যতম নেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, জোড়াফুল প্রতীক ও স্বীকৃতি নিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে তাঁর আলোচনা হয়েছে। যদি শেষ পর্যন্ত মমতার হাত থেকে ঘাসফুল প্রতীকটি চলে যায়, তবে কি ‘প্ল্যান বি’ হিসেবে অন্য কোনো প্রতীক বেছে রেখেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো? রাজনৈতিক মহলে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্ল্যান ‘বি’-র সম্ভাব্য প্রতীকটি হতে পারে সূর্যমুখী ফুল

সূর্যমুখী ফুল নিয়েই কেন ভাবনাচিন্তা?

যদি শেষ পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘প্ল্যান বি’-র পথ বেছে নিতে হয়, তবে প্রতীক হিসেবে সূর্যমুখী ফুলকে বেছে নেওয়ার নেপথ্যে রয়েছে এক সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক অঙ্ক। আর সেই রাজনীতির মূল কেন্দ্রবিন্দু হল ‘জেন জি’ (Gen Z) প্রজন্ম। ভারত সহ গোটা বিশ্বে এই তরুণ প্রজন্ম এখন রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। বিশেষ করে নিট কেলেঙ্কারির বিরুদ্ধে আন্দোলন এবং শিক্ষা ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রতিবাদের জেরে ভারতেও জেন জি আন্দোলন যথেষ্ট সাড়া ফেলেছে। আর এই তরুণ প্রজন্মের কাছে অন্যতম প্রিয় ফুল হলো সূর্যমুখী।

জেন জি-র কাছে প্রেমের ও অনুভূতির ভাষা

এতদিন প্রেম বা ভালোবাসার প্রতীক হিসেবে গোলাপ ফুলই একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে ছিল। তবে সেই পুরনো ট্র্যাডিশনকে বদলে দিয়েছে বর্তমান প্রজন্ম। সঙ্গী বা সঙ্গিনীকে প্রেম নিবেদন থেকে শুরু করে শিক্ষক বা অধ্যাপককে ধন্যবাদ জ্ঞাপন—যেকোনো বিশেষ মুহূর্তে জেন জি এখন বেছে নিচ্ছে সূর্যমুখী ফুলকেই।

এর ফলে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাজারে সূর্যমুখী ফুলের চাহিদা ও বিক্রি ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এমনকি ভ্যালেন্টাইন্স ডে-র মতো উৎসবেও গোলাপকে পেছনে ফেলে এগিয়ে গেছে সূর্যমুখী। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি প্রতীক বদলের বাধ্যবাধকতায় পড়েন, তবে জেন জি প্রজন্মের মন জয় করতেই এই প্রতীক বেছে নেওয়ার জল্পনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

প্রতীক ইস্যুতে কী বলছে দুই শিবির?

১৯৯৭ সালে তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার সময় ঘাসের উপর জোড়াফুল প্রতীকটি নির্বাচন করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে তিনি যে সহজে এই প্রতীক হাতছাড়া করতে নারাজ, তা তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট। সম্প্রতি প্রতীক ইস্যুতে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি বলেন,

“আমি জানি ওরা প্রতীক পাবে না। কিন্তু যদি ভ্যানিশ কুমার বাবু আমাদের দল শেষ করার জন্য প্রতীক দিয়েও দেন, তাতেও কিছু যায় আসে না। দরকার হলে আমি গলায় প্রতীক ঝুলিয়ে মানুষের কাছে বেরোব।”

অন্যদিকে, বিদ্রোহী শিবির ও সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি অন্য কথা বলছে। এক শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পাশাপাশি ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গেও তাঁর এ বিষয়ে কথা হয়েছে। ভূপেন্দ্র যাদব নাকি তাঁকে জানিয়েছেন যে, জোড়াফুল প্রতীক কার পক্ষে যাবে তা শীঘ্রই নির্ধারিত হবে এবং এর জন্য সামান্য আইনি সময় প্রয়োজন।

জোড়াফুল প্রতীক ঘিরেই এই মুহূর্তে রাজ্য রাজনীতিতে উত্তেজনার পারদ চড়েছে তুঙ্গে। নির্বাচন কমিশন এবং আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি মমতার পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *