ভবানীপুর ভোট মামলা নিয়ে বড় মোড়! দ্রুত নিষ্পত্তির আর্জি জানিয়ে আদালতকে কী বললেন কল্যাণ?

বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর কেন্দ্রের ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের হওয়া ইলেকশন পিটিশন (Election Petition) মামলা দ্রুত শেষ করার আর্জি জানালেন তৃণমূল সাংসদ তথা বর্ষীয়ান আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি গৌরাঙ্গ কান্তের বেঞ্চে এই মামলার শুনানিতে আদালতের দীর্ঘসূত্রিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। একই সঙ্গে মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তি করে একটি নতুন নজির গড়ার অনুরোধ জানান।

ঠিক কী ঘটেছিল শুনানিতে?

এদিন শুনানির শুরুতেই কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতকে জানান, “মাই লর্ড, পাঁচ বছরেও ইলেকশন পিটিশনের মামলা শেষ হয় না, এবার একটা নজির তৈরি করুন।” তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ১৯৭৯ বা ১৯৮১ সাল থেকে তিনি প্র্যাকটিস করছেন, কিন্তু মাত্র একটি মামলায় পাঁচ বছর মেয়াদের শেষ তিন মাস আগে নিষ্পত্তি হতে দেখেছেন। এই পরিস্থিতিতে বিচারপতি গৌরাঙ্গ কান্ত তাঁকে আশ্বস্ত করে জানান যে মামলাটি দ্রুত শেষ করার চেষ্টা করা হবে।

অন্যদিকে, এই মামলায় যুক্ত হতে চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে একটি চিঠি দিয়েছেন ভবানীপুর কেন্দ্রেরই অন্য এক প্রার্থী। কিন্তু সেই চিঠির অনুলিপি পাননি বলে দাবি করেছেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। এভাবে আদালতের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে চিঠি দিয়ে মামলায় পক্ষভুক্ত হওয়া যায় কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এই বিষয়ে রেজিস্ট্রার জেনারেলকে রিপোর্ট দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি।

শুভেন্দুকে ৪ সপ্তাহ সময় ও নোটিশ নিয়ে প্রশ্ন

ভবানীপুর বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরাজয়কে চ্যালেঞ্জ করে করা এই মামলায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তাঁর বক্তব্য পেশ করার জন্য আদালতের কাছে সময় চেয়েছেন। বিচারপতি গৌরাঙ্গ কান্ত তাঁকে চার সপ্তাহ সময় দিয়েছেন এবং এই সময়ের মধ্যেই লিখিত জবাব জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনকেও রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শুনানিকালে বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন যে, ১৭ জন নোটিশ পেলেও কেন মাত্র ৩ জন আদালতে হাজির হলেন। এর পরেই তিনি সকলকে নতুন করে নোটিশ পাঠানোর নির্দেশ দেন। এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে চার সপ্তাহ পর। উল্লেখ্য, এর আগে গত ২৩ জুন কলকাতা হাইকোর্ট ভবানীপুর কেন্দ্রের সমস্ত নির্বাচনী নথি— ইলেকট্রনিক ডেটা, ভিভিপ্যাট (VVPAT) এবং সিসিটিভি ফুটেজ সুরক্ষিত রাখার নির্দেশ দিয়েছিল নির্বাচন কমিশনকে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *