ফেসবুক বা সোশাল মিডিয়াতেও কি নিষিদ্ধ শেখ হাসিনার বক্তব্য? ট্রাইব্যুনালের নির্দেশ ঘিরে তুঙ্গে চর্চা!

বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিল্লিতে সংবাদ সম্মেলন করবেন বলে তাঁর দল আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও নানামুখী আলোচনা শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মৃত্যুদণ্ডের রায় এবং সরকারের কঠোর সতর্কবার্তার মাঝে প্রশ্ন উঠেছে— ফেসবুক বা অন্যান্য সামাজিক মাধ্যমেও কি তাঁর বক্তব্য প্রচারে নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য?
সরকারের সতর্কতা ও ট্রাইব্যুনালের নির্দেশ
সম্প্রতি বাংলাদেশের বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ দল আওয়ামী লীগের ভেরিফায়েড ফেসবুক পাতায় জানানো হয় যে, ৫ আগস্ট ‘স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের’ ঘোষণা নিয়ে দিল্লিতে একটি প্রেস কনফারেন্সে যুক্ত হবেন শেখ হাসিনা। এই ঘোষণার পরেই আদালতের নিষেধাজ্ঞার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে কেউ যেন তাঁর বক্তব্য বা খবর প্রচার না করে, সে বিষয়ে গণমাধ্যমকে সতর্ক করেছে বাংলাদেশ সরকার।
ঢাকায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোঃ আমিনুল ইসলাম স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, শেখ হাসিনার ‘বিদ্বেষমূলক’ বক্তব্য প্রচারে ট্রাইব্যুনালের সুনির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞা রয়েছে এবং এই নিষেধাজ্ঞা কেবল মূলধারার গণমাধ্যম নয়, বরং সামাজিক মাধ্যম বা সোশ্যাল মিডিয়ার ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য হবে।
আওয়ামী লীগের প্রতিক্রিয়া ও রাজনৈতিক জল্পনা
অন্যদিকে, সরকারের এই কঠোর অবস্থানের বিপরীতে আওয়ামী লীগের নেতারা মনে করছেন যে, নানা ধরনের নিষেধাজ্ঞা জারি করে তাদের দলের নেত্রীর মুখ ও বক্তব্য প্রচার কোনোভাবেই ঠেকানো সম্ভব নয়।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকেই ভারতেই অবস্থান করছেন শেখ হাসিনা। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাঁকে মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছে। এছাড়া তাঁর দল আওয়ামী লীগের কার্যক্রমেও নির্বাহী আদেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে এবং নির্বাচন কমিশন দলটির নিবন্ধন স্থগিত করায় তারা সাম্প্রতিক সংসদ নির্বাচনেও অংশ নিতে পারেনি।
এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতেও দিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাবের একটি মতবিনিময় সভায় শেখ হাসিনার অংশ নেওয়ার খবর ছড়িয়েছিল। যদিও সেবার তিনি সরাসরি যোগ দেননি, তবে আয়োজকদের মাধ্যমে তাঁর একটি রেকর্ড করা অডিও বার্তা বাজিয়ে শোনানো হয়েছিল। এখন দেখার বিষয়, বর্তমান পরিস্থিতিতে তাঁর নতুন এই কর্মসূচি সোশাল মিডিয়া বা অন্যান্য মাধ্যমে কতটা প্রভাব ফেলে।