করোনা আবহের আলোচিত ‘ডায়মন্ড হারবার কোভিড মডেল’ নিয়ে বড় বিপাকে অভিষেক! শুরু হচ্ছে হাই-প্রোফাইল তদন্ত

কোভিড অতিমারির সময় রাজ্যজুড়ে ব্যাপক প্রশংসিত এবং তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্বের তরফে সাফল্যের অনন্য উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা ‘ডায়মন্ড হারবার কোভিড মডেল’ নিয়ে এবার শুরু হয়েছে বড় বিতর্ক। সংক্রমণ মোকাবিলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই অভিনব উদ্যোগ ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক চাপ তৈরি হয়েছে। কোভিড পরীক্ষার অবিশ্বাস্য পরিসংখ্যান, ব্যবহৃত কিটের মান, সরকারি পরিকাঠামো ও সম্পদের যথেচ্ছ ব্যবহার এবং সামগ্রিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নিয়ে ওঠা গুরুতর অভিযোগের ভিত্তিতে এবার সরাসরি তদন্তে নামছে পশ্চিমবঙ্গ মেডিক্যাল কাউন্সিল।
কী নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক?
জাতীয় মেডিক্যাল কমিশনের (National Medical Commission) নির্দেশেই মূলত এই তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই পুরো বিতর্কের সূত্রপাত বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাসের করা একটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগকে কেন্দ্র করে। তাঁর অভিযোগ, ২০২২ সালের জানুয়ারি মাসে ডায়মন্ড হারবারে যে বৃহৎ আকারের গণ-কোভিড পরীক্ষা (Mass Testing) অভিযান চালানো হয়েছিল, তাতে কোনো সরকারি বিধি বা নির্ধারিত প্রশাসনিক নিয়ম সঠিকভাবে মানা হয়নি। পাশাপাশি, সরকারি অর্থ এবং পরিকাঠামো ব্যবহারের ক্ষেত্রেও একাধিক অনিয়মের প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
এই বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছিলেন ওই বিজেপি নেতা। অভিযোগে শুধুমাত্র সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নন, দক্ষিণ ২৪ পরগনার তৎকালীন জেলাশাসক এবং ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার তৎকালীন পুলিশ সুপার-সহ মোট ২৬ জন শীর্ষস্থানীয় প্রশাসনিক আধিকারিকের নামও জড়ানো হয়েছে। অভিযোগকারীর বক্তব্য, ওই কর্মসূচি বাস্তবায়নের প্রতিটি স্তরে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং সরকারি সম্পদের ব্যবহার অত্যন্ত স্বচ্ছতার সঙ্গে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
কোভিড পরীক্ষার পরিসংখ্যান নিয়ে প্রশ্ন:
অতিমারির সময়ে ডায়মন্ড হারবারে করোনা মোকাবিলার বিশেষ মডেল হিসেবে যে গণ-পরীক্ষা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল, তার রেকর্ড ও পরিসংখ্যান নিয়েও জোরালো প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সেই সময় মাত্র একদিনের মধ্যে ২৬০টি স্থায়ী পরীক্ষা কেন্দ্র, ২৩টি মোবাইল ইউনিট বা ভ্রাম্যমাণ একক এবং ৩০টি কিয়স্কের মাধ্যমে মোট ৫৩,২০৩টি নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা করা হয়েছিল।
তদন্তের দাবিদারদের প্রশ্ন, যেখানে সেই নির্দিষ্ট সময়ে গোটা পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে প্রতিদিন গড়ে মাত্র ৬৫ থেকে ৭০ হাজার কোভিড পরীক্ষা সম্পন্ন হত, সেখানে শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট লোকসভা এলাকার মধ্যে একদিনে এত বিপুল সংখ্যক মানুষের নমুনা পরীক্ষা কীভাবে সম্ভব হলো? এই গাণিতিক অসঙ্গতি ও ডায়াগনস্টিক কিট সংগ্রহের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলার পরেই জাতীয় মেডিক্যাল কমিশন পশ্চিমবঙ্গ মেডিক্যাল কাউন্সিলকে পুরো ঘটনাটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করে দ্রুত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। অতিমারির সেই আলোচিত মডেল এখন কাঠগড়ায় ওঠায়, শেষ পর্যন্ত তদন্তে কী তথ্য বেরিয়ে আসে এবং তার ভিত্তিতে কী রাজনৈতিক ও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়, সেদিকেই এখন নজর রয়েছে পুরো রাজ্যের।