“মাথা খারাপ হয়নি, বিবেক বিক্রি করিনি!” সহকর্মীদের তীব্র আক্রমণ ধূলিসাৎ করে বিস্ফোরক পোস্ট শ্রীলেখা মিত্রের

দিল্লিতে ছাত্র আন্দোলনের ওপর পুলিশি লাঠিচার্জের প্রতিবাদের জেরে গত মাসে তীব্র বিতর্কের মুখে পড়েছিলেন অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র (Sreelekha Mitra)। কলকাতার সেই মিছিলে তাঁর হাতে থাকা একটি পোস্টারে দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর একটি বিকৃত কার্টুন ব্যবহার করা হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই বাংলার রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের বড় অংশের সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। এমনকী, তাঁর নামে ৩০টিরও বেশি থানায় এফআইআর দায়ের হয়, গ্রেফতারির দাবি তোলে বিজেপি এবং তাঁর বাড়ির সামনে বিক্ষোভও দেখায় শাসক দলের অনুরাগীরা।

সহকর্মীদের কটাক্ষের কড়া জবাব শ্রীলেখার
শুধু রাজনৈতিক শিবির থেকেই নয়, টলিউডের বড় বড় তারকারাও এই ঘটনার পর শ্রীলেখার কঠোর সমালোচনা করেন। প্রায় সকলেরই এক কথা ছিল যে, প্রতিবাদের ভাষা যেন কখনই শালীনতার মাত্রা না ছাড়ায়। প্রবীণা অভিনেত্রী রত্না ঘোষাল দাবি করেন, শ্রীলেখার “মাথা খারাপ হয়ে গিয়েছে”। পাশাপাশি কনীনিকা বন্দ্যোপাধ্যায় ও মমতা শঙ্করদের মতো তারকারাও অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে মুখ খোলেন।

টলিউডের তারকাদের এই আক্রমণ ও সমালোচনার মুখে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি লম্বা পোস্ট করে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন শ্রীলেখা। তিনি লেখেন, “একজন অভিনেত্রী যখন বলেন, ‘শিক্ষিত হওয়া ভালো, অতিশিক্ষিত হওয়া ভালো নয়’, তখন ধরে নিচ্ছি তিনি স্বীকার করছেন যে কিছু ক্ষেত্রে আমি তাঁদের চেয়ে বেশি শিক্ষা, অভিজ্ঞতা, বোধ বা চেতনার পরিচয় দিয়েছি। শিক্ষিত হওয়া মানে শুধু ডিগ্রি নয়। শিক্ষা মানে এক্সপোজার, প্রশ্ন করার ক্ষমতা, মানবিকতা, চেতনা এবং বিবেক। সেই জায়গায় আমার অবস্থান আলাদা— এটাই যদি আমার অপরাধ হয়, তবে সেই দায় আমি নিলাম।”

রত্না ঘোষালের মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে অভিনেত্রী লেখেন, “ঘোষাল মহাশয়া বলেছেন, আমার মাথা নাকি খারাপ হয়ে গেছে। হ্যাঁ, সত্যিই আমার মাথা খারাপ হয়ে যায়, যখন দেখি প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো ঘটনায় অসংখ্য ছাত্রছাত্রীর স্বপ্ন ভেঙে যায়, কেউ কেউ চরম হতাশায় আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। এমন ঘটনা আমাকে নাড়া দেয়। যদি অন্যায় দেখে প্রতিবাদ করাকে মাথা খারাপ বলা হয়, তাহলে সেই অভিযোগ আমি মেনে নিলাম।”

সুবিধাবাদী রাজনীতি ও মেরুদণ্ড নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য
পোস্টের শেষে কাউকে ছাড় না দিয়ে শ্রীলেখা আরও লেখেন, “আমি আপনাদের মতো হতে পারিনি, আর হতে চাইওনি। ক্ষমতার সুবিধা পাওয়ার জন্য কখনও দল বদলে নিজের অবস্থান বদলাইনি। আজ টিএমসি, কাল বিজেপি—যে দিকেই সুবিধা, সে দিকেই ঝুঁকে পড়ার রাজনীতি আমি করিনি। নিজের বিবেক, আত্মসম্মান আর মেরুদণ্ড বিক্রি করিনি। সেটাই যদি আমার দোষ হয়, তাহলে সেই দোষ নিয়েই আমি বাঁচব। একটা কথা মনে রাখব, আর আপনাদেরও মনে করিয়ে রাখলাম—সময় কখনও এক জায়গায় থেমে থাকে না। সময় বদলায়। আমার খারাপ সময়ে আপনারা আমায় যদি লাথি মারেন, তাহলে প্রার্থনা করুন আমি যেন কখনো উঠে না দাঁড়াই!”

প্রধানমন্ত্রীর ছবি বিতর্ক নিয়ে কী সাফাই দিয়েছিলেন শ্রীলেখা?
গোটা বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা সেই পোস্টার ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি নিয়ে শ্রীলেখা আগে সাফাই দিয়ে জানিয়েছিলেন যে, যখন ছবিটি তোলা হচ্ছিল তখন পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করে দেয়। সেই মুহূর্তে কিছু ছেলে তাঁর সঙ্গে ছবি তুলতে আসে এবং তাদের হাতে থাকা একটি পোস্টার ধরেই তিনি পোজ দিয়েছিলেন। তাড়াহুড়োর মধ্যে এবং চোখে সানগ্লাস পরা থাকায় (চোখে চশমা না থাকায়) তিনি ভালো করে খেয়াল করতে পারেননি যে ওই পোস্টারে কী রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *