রক্ত ও প্লাজমা বিক্রিতে ১০০ কোটিরও বেশি টাকার দুর্নীতি! রাজ্যের ১১টি ব্লাড ব্যাঙ্কের বিরুদ্ধে এফআইআর-এর প্রস্তুতি

রাজ্যে রক্ত সংগ্রহ এবং প্লাজমা বিক্রির ব্যবসাকে কেন্দ্র করে এক বিশাল দুর্নীতির (Blood Bank Scam) চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এল। স্বাস্থ্য দফতরের প্রাথমিক তদন্তে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে যে, কিছু বেসরকারি ব্লাড ব্যাঙ্ক সমস্ত নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে অতিরিক্ত রক্ত সংগ্রহ করেছে এবং তা থেকে প্লাজমা বিক্রি করে কোটি কোটি টাকার অবৈধ ব্যবসা চালিয়েছে। এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগের ভিত্তিতে এবার সরাসরি ১১টি বেসরকারি ব্লাড ব্যাঙ্কের বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR) দায়ের করার চূড়ান্ত প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।

নিয়ম ভেঙে অতিরিক্ত রক্ত সংগ্রহ ও প্লাজমা ব্যবসা:
স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গেছে, রাজ্যের মোট ৭৪টি বেসরকারি ব্লাড ব্যাঙ্কের মধ্যে অন্তত ১২টি বর্তমানে জোরদার তদন্তের আওতাধীন রয়েছে। এর মধ্যে ১১টিতে গুরুতর অনিয়মের পোক্ত প্রমাণ মেলায় ওই প্রতিষ্ঠানগুলিকে আপাতত সমস্ত ধরনের স্বেচ্ছায় রক্তদান শিবির আয়োজন করতে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে।

রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের দাবি, প্রাথমিক তদন্তেই এই বিশাল কেলেঙ্কারির আর্থিক পরিমাণ ১০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। মূল উদ্দেশ্য ছিল চড়া দামে প্লাজমা বিক্রি করে বিপুল মুনাফা অর্জন করা। এই লোভে বহু ক্ষেত্রে নিয়ম ভেঙে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত রক্ত সংগ্রহ করা হয়েছে। সাধারণ মানুষকে রক্তদানে উৎসাহিত করতে এবং বেশি সংখ্যক রক্তদাতাকে আকৃষ্ট করতে নানা রকমের লোভনীয় উপহার ও আর্থিক প্রলোভনও দেখানো হয়েছিল, যার পুরো খরচ বহন করত সংশ্লিষ্ট ব্লাড ব্যাঙ্কগুলি।

পদ্মপুকুরের ব্লাড ব্যাঙ্কে হানা ও চাঞ্চল্যকর তথ্য:
সম্প্রতি পদ্মপুকুরের একটি বেসরকারি ব্লাড ব্যাঙ্কে স্বাস্থ্য দফতর অভিযান চালিয়ে বেশ কিছু তোলপাড় ফেলে দেওয়া তথ্য উদ্ধার করে। তদন্তে দেখা যায়, যে ব্লাড পাউচে ৩০০ মিলিলিটার রক্ত ধারণের কথা, সেখানে প্রায় ৫০০ মিলিলিটার পর্যন্ত রক্ত ভরা হয়েছে। এমনকি, ছোট মাপের ফ্রিজারে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত রক্ত ও প্লাজমা অবৈধভাবে মজুত রাখার অভিযোগও প্রমাণিত হয়েছে।

প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম ও রাজনৈতিক যোগ:
তদন্ত চলাকালীন অভিযুক্ত ওই ব্লাড ব্যাঙ্ক থেকে কয়েকটি গোপন স্ট্যাম্প বা সীলমোহর উদ্ধার করা হয়েছে বলে বিশেষ সূত্রে খবর। জানা গেছে, ওই স্ট্যাম্পগুলিতে কালীঘাটের এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা, তৃণমূল কংগ্রেসের এক প্রাক্তন মন্ত্রী এবং এক প্রাক্তন বিধায়কের নাম ও নামের উল্লেখ রয়েছে। তবে এই দুর্নীতির সঙ্গে আদপে ওই প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কোনো সরাসরি যোগ বা ভূমিকা রয়েছে কি না, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে। পুরো বিষয়টি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারী আধিকারিকেরা। অনিয়মে অভিযুক্ত এই ব্লাড ব্যাঙ্কগুলির বিরুদ্ধে আজ মঙ্গলবারই কড়া আইনি পদক্ষেপ হিসেবে এফআইআর রুজু হতে পারে বলে প্রশাসনিক মহলে তীব্র জল্পনা শুরু হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *