স্কুল চলাকালীন নয়! জনগণনা নিয়ে শিক্ষক ও সরকারি কর্মীদের জন্য বড় নির্দেশিকা জারি করল শিক্ষা দফতর

রাজ্যে ২০২৭ সালের জনগণনার প্রস্তুতি জোরকদমে শুরু হয়ে গেছে। এই জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ কাজ সফল করতে সরকারি স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের আগেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তবে পঠনপাঠন যাতে কোনওভাবেই ব্যাহত না হয়, তা নিশ্চিত করতে এবার বিশেষ নির্দেশিকা জারি করল শিক্ষা দফতর। নতুন নির্দেশ অনুযায়ী, স্কুল চলাকালীন বা ক্লাসের সময়ে শিক্ষকরা জনগণনার কোনো কাজ করতে পারবেন না।
শিক্ষকদের জন্য নতুন নিয়ম ও সময়সীমা:
শিক্ষা দফতরের স্পষ্ট নির্দেশ, বিদ্যালয়ের নিয়মিত ক্লাস শেষ হওয়ার পরেই জনগণনার কাজ করতে হবে শিক্ষকদের। প্রয়োজনে স্কুল ছুটির দিন কিংবা সপ্তাহান্তেও (Weekend) এই কাজে অংশ নিতে হবে তাঁদের। প্রশাসনের মতে, শিক্ষার পরিবেশ এবং বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক ছন্দ অক্ষুণ্ণ রাখার পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জনগণনার কাজ শেষ করাই এই নিয়মের মূল উদ্দেশ্য।
জানা গেছে, দেশজুড়ে জনগণনার প্রথম ধাপে নাগরিকরা নিজেরাই অনলাইনে তথ্য নথিভুক্ত করতে পারছেন। এরপর দ্বিতীয় পর্যায়ে শুরু হবে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ ও যাচাইয়ের কাজ। এই ধাপে শিক্ষক-শিক্ষিকা ছাড়াও সহকারী শিক্ষক এবং স্কুলের দফতর কর্মীদেরও যুক্ত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশ অমান্য করলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা:
এর আগে শিক্ষা দফতর সাফ জানিয়ে দিয়েছিল, জনগণনার কাজে শিক্ষকদের অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক। নতুন নির্দেশিকায় আরও স্পষ্ট করা হয়েছে যে, কোনো শিক্ষক এই দায়িত্ব পালন করতে অস্বীকার করলে ‘সেন্সাস অ্যাক্ট, ১৯৪৮’ (Census Act, 1948) অনুযায়ী কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ ১,০০০ টাকা জরিমানা এবং সর্বোচ্চ ৩ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের সংস্থান রয়েছে। প্রশাসনের আশা, এই সুনির্দিষ্ট নির্দেশিকা জারির ফলে ক্লাসরুমের শিক্ষা এবং জনগণনা—উভয় ক্ষেত্রেই সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখা সম্ভব হবে।