তারাতলা কাণ্ডের পরেই কড়া পদক্ষেপ! ২০২৬-এর মার্চ পর্যন্ত তৈরি বেআইনি বাড়ি নিয়ে বড় বার্তা মন্ত্রী অগ্নিমিত্রার

তারাতলার ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর এবার রাজ্যের বেআইনি নির্মাণ ও ভবন রক্ষা নীতি নিয়ে আরও কঠোর অবস্থান নিল রাজ্য সরকার। পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, নির্দিষ্ট সময়সীমা অর্থাৎ ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত তৈরি হওয়া কোনো বাড়ি বা ভবন নিয়ে যদি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আসে, তবে তা গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে দেখা হবে।
তদন্তে অনিয়ম মিললেই বিশাল অঙ্কের জরিমানা:
বেআইনি নির্মাণ রুখতে কড়া পদক্ষেপের ঘোষণা করে মন্ত্রী জানান, তদন্তে কোনো অনিয়ম বা বেআইনি বিষয় ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট বাড়ির মালিককে বড় অঙ্কের জরিমানা দিতে হবে। এই জরিমানার পরিমাণ এতটাই বেশি হবে যে তা বহন করা সহজ হবে না। সরকারের এই নতুন নিয়ম আবাসিক এবং বাণিজ্যিক—উভয় ধরনের ভবনের ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য হবে বলে জানানো হয়েছে।
বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদনে থার্ড-পার্টি এজেন্সির নজরদারি:
ভবিষ্যতে বেআইনি নির্মাণ ঠেকাতে এবং ভবন অনুমোদনের প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ করতে বড় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এখন থেকে বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদনের জন্য বিশেষ কিছু বিশেষজ্ঞ সংস্থা বা থার্ড-পার্টি এজেন্সির সাহায্য নেওয়া হবে। ওই সমস্ত এজেন্সির ছাড়পত্র বা সিগনেচার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, নতুবা কোনো প্ল্যান পাস করা হবে না।
তারাতলা দুর্ঘটনার প্রেক্ষাপট:
উল্লেখ্য, প্রায় এক মাস আগে তারাতলায় একটি কারখানার লোহার শেড ভেঙে পড়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছিল। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ওই দুর্ঘটনায় বহু মানুষের মৃত্যু হয় এবং অনেকেই আহত হন। তদন্তে জানা যায়, গোডাউন তৈরির বরাত পাওয়া ঠিকাদার আসগার হুসেইন ঘটনার পর থেকেই পলাতক। পাশাপাশি পোর্ট ট্রাস্টের কাছ থেকে জমি লিজ নেওয়া শম্ভুনাথ বেহেরা সহ মোট পাঁচজনকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তারাতলার মতো দুর্ঘটনা যাতে ভবিষ্যতে আর না ঘটে, সেই কারণেই সরকারের পক্ষ থেকে নির্মাণের নিয়ম আরও কঠোর করার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।