আসছে এমজির নতুন ঝড়! ২৮ আগস্ট লঞ্চ হতে চলা ‘হেক্টর হক’ এসইউভি-তে কী কী ধামাকাদার ফিচার থাকছে?

ভারতীয় অটোমোবাইল বাজারে ফের বড় চমক আনতে চলেছে জেএসডব্লিউ এমজি মোটর ইন্ডিয়া (JSW MG Motor India)। আগামী ২৮শে আগস্ট সংস্থা তাদের একেবারে নতুন একটি এসইউভি (SUV) বাজারে লঞ্চ করতে চলেছে। জল্পনা রয়েছে যে এই নতুন গাড়িটির নাম হতে পারে ‘হেক্টর হক’ (Hector Hawk)। এটি হবে এমজির নতুন ‘অ্যাডাপ্ট’ (ADAPT) প্ল্যাটফর্মে তৈরি হওয়া প্রথম কোনো মডেল। সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো, গ্রাহকরা এই গাড়িটিতে সম্পূর্ণ ইলেকট্রিক (EV) এবং প্লাগ-ইন হাইব্রিড (PHEV)— এই দুইয়ের মধ্যে যেকোনো একটি ভ্যারিয়েন্ট বেছে নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

ডিজাইন ও বাহ্যিক অবয়ব
আন্তর্জাতিক বাজারে উপলব্ধ ‘উলিং স্টারলাইট ৫৬০’ (Wuling Starlight 560)-এর আদলেই তৈরি হয়েছে এই হেক্টর হক। গাড়িটির দৈর্ঘ্য ৪.৭ মিটার, প্রস্থ ১.৮৫ মিটার এবং উচ্চতা ১.৭ মিটার। ইতিমধ্যেই ভারতের বিভিন্ন রাস্তায় এই এসইউভিটিকে দফায় দফায় পরীক্ষামূলকভাবে (Testing) চলতে দেখা গেছে।

গাড়িটির ইলেকট্রিক ভ্যারিয়েন্টটিতে আকর্ষণীয় ডিজাইনের এলইডি হেডলাইট (ওপরে ও নিচে ডিআরএল সহ), একটি ক্লোজড ফ্রন্ট গ্রিল, চারপাশে আধুনিক এলইডি টেইললাইট, রুফ-মাউন্টেড স্পয়লার এবং পেছনের বাঁ দিকের ফেন্ডারে একটি চার্জিং পোর্ট দেখতে পাওয়া যাবে।

প্রিমিয়াম ফিচার ও কেবিন অভিজ্ঞতা
গাড়িটির অভ্যন্তরে একটি দুর্দান্ত মিনিমালিস্ট ড্যাশবোর্ড লেআউট রাখা হয়েছে। এতে রয়েছে:

একটি ৮.৮-ইঞ্চির ডিজিটাল ইন্সট্রুমেন্ট ক্লাস্টার।

বড় ১২.৮-ইঞ্চির টাচস্ক্রিন ইনফোটেইনমেন্ট সিস্টেম।

প্যানোরামিক সানরুফ (Panoramic Sunroof)।

পাওয়ার্ড ও ভেন্টিলেটেড ফ্রন্ট সিট।

৫০ ওয়াটের ফাস্ট ওয়্যারলেস চার্জার।

৬-স্পিকারের প্রিমিয়াম সাউন্ড সিস্টেম এবং রিয়ার এসি ভেন্টসহ অটোমেটিক ক্লাইমেট কন্ট্রোল।

উন্নত নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য (Safety Features)
যাত্রীদের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে এই এসইউভিতে নিরাপত্তার ঝুলি বেশ সমৃদ্ধ রাখা হয়েছে। স্ট্যান্ডার্ড ফিচার হিসেবে থাকছে:

৬টি এয়ারব্যাগ।

টায়ার প্রেশার মনিটরিং সিস্টেম (TPMS)।

হিল-হোল্ড অ্যাসিস্ট ও ইলেকট্রনিক পার্কিং ব্রেক।

সেন্সরসহ রিয়ার পার্কিং ক্যামেরা।

অত্যাধুনিক ADAS (অ্যাডভান্সড ড্রাইভার অ্যাসিস্ট্যান্স সিস্টেম) প্রযুক্তি।

ব্যাটারি, প্ল্যাটফর্ম ও পারফরম্যান্স
‘হেক্টর হক’-এ ব্যবহৃত নতুন ADAPT প্ল্যাটফর্মটি মূলত ইলেকট্রিক ভেহিকল (EV), PHEV, রেঞ্জ-এক্সটেন্ডার এবং স্ট্রং হাইব্রিড— এই সমস্ত প্রযুক্তিকেই সমর্থন করতে সক্ষম। তবে আপাতত জেএসডব্লিউ এমজি নিশ্চিত করেছে যে, তারা প্রথম ধাপে শুধুমাত্র EV এবং PHEV ভ্যারিয়েন্টেই জোর দিচ্ছে।

ইলেকট্রিক ভ্যারিয়েন্ট (EV): এতে একটি ৬৯.২ কিলোওয়াট-ঘণ্টা (kWh) ক্ষমতার ব্যাটারি প্যাকের সঙ্গে একটি ফ্রন্ট মোটর থাকবে, যা থেকে ২০১ হর্সপাওয়ার এবং ৩১০ নিউটন মিটার টর্ক মিলবে। কোম্পানির দাবি অনুযায়ী, এটি একবার চার্জ দিলে প্রায় ৫৩০ কিলোমিটার (CLTC রেঞ্জ) পথ পাড়ি দিতে পারবে।

প্লাগ-ইন হাইব্রিড (PHEV): এই মডেলে থাকবে একটি ১.৫ লিটারের পেট্রোল ইঞ্জিন, একটি ২০.৫ কিলোওয়াট-ঘণ্টা (kWh) ব্যাটারি এবং একটি ইলেকট্রিক মোটর। এই কম্বিনেশন থেকে মোট ১৯৫ হর্সপাওয়ার ও ২৩০ নিউটন মিটার টর্ক উৎপন্ন হবে। পাশাপাশি, এটি শুধুমাত্র ইলেকট্রিক মোডেই ১২৫ কিলোমিটার পর্যন্ত রেঞ্জ দেবে।

প্রতিযোগিতায় কার মুখোমুখি হবে?
এমজি-র বর্তমান লাইনআপে ‘হেক্টর’-এর ঠিক ওপরে স্থান দেওয়া হবে এই নতুন ‘হেক্টর হক’-কে। বাজারে আসার পর এর ইলেকট্রিক সংস্করণটি সরাসরি লড়বে মহিন্দ্রা XEV 9S-এর বিরুদ্ধে। অন্যদিকে, এর PHEV বা প্লাগ-ইন হাইব্রিড সংস্করণটি প্রতিযোগিতায় নামবে মহিন্দ্রা XUV 7XO এবং টাটা সাফারি (Tata Safari)-র মতো জনপ্রিয় গাড়িগুলির সঙ্গে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *