এক বা দু’জন নয়, ২৪ ঘণ্টা ২২ জন পুরুষের সঙ্গে চ্যাট! ৫ বছরের লিভ-ইন সম্পর্কে চরম বিশ্বাসঘাতকতার কাহিনী ভাইরাল

সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এসেছে, যা নেটদুনিয়ায় রীতিমতো শোরগোল ফেলে দিয়েছে। দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে লিভ-ইন (Live-in) সম্পর্কে থাকার পর এক যুবক জানতে পেরেছেন যে তাঁর প্রেমিকা দিনের পর দিন তাঁর সঙ্গে প্রতারণা করে চলেছেন। লুকিয়ে এক বা দু’জন নয়, একেবারে ২২ জন পুরুষের সঙ্গে নিয়মিত চ্যাট করতেন সেই তরুণী! প্রেমিকার এই আসল রূপ সামনে আসার পর মানসিকভাবে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছেন ওই যুবক।

ঠিক কী ঘটেছিল?
গত পাঁচ বছর ধরে এক ছাদের নিচে অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবেই বসবাস করছিলেন ওই যুগল। সবকিছু ঠিকঠাকই চলছিল, কিন্তু কিছুদিন ধরে যুবকের মনে সন্দেহ দানা বাঁধতে শুরু করে। তিনি লক্ষ্য করেন যে তাঁর প্রেমিকা সর্বক্ষণ মোবাইল ফোনে ব্যস্ত থাকেন এবং আগের মতো খোলামেলা না থেকে তাঁর কাছ থেকে বেশ কিছু বিষয় লুকিয়ে চলতে শুরু করেছেন। অর্থাৎ, প্রেমিকার আচরণে এক ধরনের গোপনীয়তার চাদর ঢাকা পড়তে দেখে যুবকের সন্দেহ আরও জোরালো হয়।

ফোন চেক করতেই পর্দাফাঁস
একদিন সুযোগ বুঝে প্রেমিকার অনুপস্থিতিতে তাঁর মোবাইল ফোনটি হাতে নেন ওই যুবক। এরপর ফোনের চ্যাট বক্স বা হোয়াটসঅ্যাপ এবং অন্যান্য চ্যাট অ্যাপের ইনবক্স ওপেন করতেই তাঁর পায়ের তলার মাটি সরে যায়। তিনি দেখতে পান, মোট ২২ জন আলাদা আলাদা পুরুষের সঙ্গে নিয়মিত চ্যাট ও কথা চালাচ্ছেন তাঁর প্রেমিকা।

শুধু সাধারণ টুকটাক আলাপচারিতা নয়, সেই কথোপকথনের ধরণ এবং ঘনিষ্ঠ চ্যাটের ভাষা দেখে যুবকের বুঝতে আর বিন্দুমাত্র বাকি থাকে না যে, তাঁর আড়ালে আড়ালে আরও অনেকের সঙ্গেই প্রেমের সম্পর্ক ও মেলামেশা বজায় রেখে চলেছেন সেই তরুণী। ভালোবাসার দীর্ঘ ৫ বছরের সম্পর্কের এমন পরিণতি দেখে আর এক মুহূর্তও অপেক্ষা করেননি ওই যুবক। প্রেমিকার মুখোশ খুলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি অবিলম্বে সেই বিষাক্ত সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসেন এবং সম্পর্ক ছিন্ন করেন।

নেটপাড়ায় প্রতিবাদের ঝড়
এই ঘটনা সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ্যে আসতেই তা দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে। নেটিজেনদের মধ্যে শুরু হয় তুমুল আলোচনা। বর্তমান যুগে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ‘রেড ফ্ল্যাগ’ বা বিপদের সংকেত চেনার জন্য তরুণ প্রজন্মকে আরও বেশি করে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন অনেকে। দীর্ঘদিনের বিশ্বাসভঙ্গের এমন ঘটনায় যুগলদের মানসিক সততা এবং সম্পর্কের স্বচ্ছতা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *