খুচরা মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে বড় আপডেট! বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমায় স্বস্তি দিল আরবিআই-এর নতুন পূর্বাভাস

বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের (Crude Oil) দামে সাম্প্রতিক পতন এবং সরবরাহজনিত চাপ কিছুটা হ্রাসের কথা মাথায় রেখে ২০২৭ অর্থবর্ষের জন্য মুদ্রাস্ফীতির (Inflation) পূর্বাভাস সংশোধন করল রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া (RBI)। বুধবার আরবিআই-এর মনিটারি পলিসি কমিটি (MPC) জুন মাসের বৈঠকের ৫.১% পূর্বাভাস থেকে কমিয়ে তা ৫ শতাংশে নামিয়ে এনেছে। একই সঙ্গে, গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রার নেতৃত্বাধীন ছয় সদস্যের এই প্যানেল টানা চতুর্থবারের মতো সুদের হার বা রেপো রেট ৫.২৫ শতাংশেই অপরিবর্তিত রেখে নিরপেক্ষ (Neutral) অবস্থান বজায় রেখেছে।

ত্রৈমাসিক ভিত্তিক মুদ্রাস্ফীতির পূর্বাভাস
নতুন অনুমান অনুযায়ী, ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে দেশের মুদ্রাস্ফীতির গতিপ্রকৃতি কেমন হতে পারে, তা একনজরে দেখে নেওয়া যাক:

প্রথম ত্রৈমাসিক (Q1): ৪.১% (যা পূর্বে ৪.২% অনুমান করা হয়েছিল)।

দ্বিতীয় ত্রৈমাসিক (Q2): ৪.৭% (পূর্বে যা ছিল ৫.১%)।

তৃতীয় ত্রৈমাসিক (Q3): ৫.৯% (এতে কোনো পরিবর্তন করা হয়নি)।

চতুর্থ ত্রৈমাসিক (Q4): ৫.৫% (পূর্বের ৫.৪% অনুমানের তুলনায় সামান্য বেশি)।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, সামগ্রিক হেডলাইন মুদ্রাস্ফীতি চলতি বছরের তৃতীয় ত্রৈমাসিকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে এবং তারপরে তা ধীরে ধীরে হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি, ২০২৭ অর্থবর্ষের জন্য ‘কোর মুদ্রাস্ফীতি’ (Core Inflation)-র পূর্বাভাসও ৪.৭% থেকে কমিয়ে ৪.৩ শতাংশ করা হয়েছে।

মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে আরবিআই ও সরকারের উদ্বেগ
যদিও প্রথম ত্রৈমাসিকে প্রকৃত মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশার চেয়ে কিছুটা কম ছিল, তবুও মূল্যবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে খাদ্য ও জ্বালানির চড়া দাম। মে মাসের ৩.৯৩ শতাংশ থেকে বেড়ে জুন মাসে খুচরা মুদ্রাস্ফীতি ৪.৩৮ শতাংশে পৌঁছেছে, যা গত ১৭ মাসের মধ্যে প্রথমবার আরবিআই-এর ৪ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রাকে ছাড়িয়ে গেছে। পশ্চিম এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, দুর্বল বর্ষা এবং জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি পরিস্থিতিকে কিছুটা জটিল করে তুলেছে।

গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং মূল্য স্থিতিশীলতা বজায় রাখাই এই মুহূর্তে আরবিআই-এর সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। বৈদেশিক মূলধন আকর্ষণের মাধ্যমে প্রায় ৩২ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহের ক্ষেত্রে ‘ফরেন কারেন্সি নন-রেসিডেন্ট’ (FCNR-B) ডিপোজিটের ভূমিকারও প্রশংসা করেছেন তিনি।

উৎসবের মরশুম ও আরও মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা
অন্যদিকে, অর্থ মন্ত্রণালয় সম্প্রতি এক সতর্কবার্তায় জানিয়েছে যে, মুদ্রাস্ফীতির প্রভাব এখন কেবল খাদ্য ও পানীয় খাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা অন্যান্য খাতেও ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষ করে ইরান যুদ্ধের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির উচ্চমূল্য বজায় থাকায় অদূর ভবিষ্যতে বড় কোনো স্বস্তির আশা দেখছেন না বিশেষজ্ঞরা।

এরই মধ্যে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের জেরে গৃহস্থালীর সরঞ্জাম থেকে শুরু করে রান্নার জিনিসপত্রের দাম দ্বিতীয় দফায় বাড়াতে শুরু করেছে বিভিন্ন কোম্পানি। যেমন— হ্যাভেলস ইন্ডিয়া তাদের পণ্যের দাম ৮ শতাংশ বাড়িয়েছে এবং টাটা কনজিউমার প্রোডাক্টস লিমিটেড লবণের দাম প্রায় ৭ শতাংশ বৃদ্ধি করেছে। সামনেই আগস্ট থেকে নভেম্বর পর্যন্ত দীর্ঘ উৎসবের মরশুম (দিওয়ালি ইত্যাদি) রয়েছে, যেখানে সাধারণত সাধারণ মানুষের খরচ ও বাজারের চাহিদা অনেকটাই বেড়ে যায়। এই বর্ধিত খরচ কোম্পানিগুলি শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের পকেট থেকেই উসুল করবে কি না এবং তা নীতি নির্ধারকদের জন্য কতটা চ্যালেঞ্জিং হবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *