লিভ-ইন সম্পর্কেও মিলবে বিবাহিতস্ত্রীর অধিকার! সঙ্গী বা তাঁর পরিবারের অত্যাচারে বড় রায় সুপ্রিম কোর্টের

প্রেমের সম্পর্কে দীর্ঘদিন ধরে সঙ্গীর সঙ্গে লিভ-ইন (Live-in relationship) করছেন? সম্পর্কে অনিশ্চয়তা বা অশান্তির জেরে আইনি সুরক্ষা নিয়ে কি দুশ্চিন্তায় রয়েছেন? এবার সেই সমস্ত দুশ্চিন্তা দূর করে লিভ-ইন সম্পর্কে থাকা মহিলাদের সুরক্ষায় এক যুগান্তকারী ও ঐতিহাসিক রায় দিল দেশের শীর্ষ আদালত।
সুপ্রিম কোর্টের নতুন রায় ও আইনি সুরক্ষা
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা অনুযায়ী, বিয়ের মতো লিভ-ইন সম্পর্কে থাকা কোনো মহিলার ওপর যদি তাঁর পুরুষসঙ্গী বা সেই সঙ্গীর পরিবার শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার চালায়, তবে এখন থেকে সেই মহিলাও কঠোর আইনি সুরক্ষা পাবেন। সহজ কথায়, এতদিন ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪৯৮এ ধারা (বর্তমানে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা বা BNS)-র মাধ্যমে কেবল আইনিভাবে বিবাহিত মহিলাই শ্বশুরবাড়ির বা স্বামীর নির্যাতনের বিরুদ্ধে যে আইনি সুবিধা ও সুরক্ষা পেতেন, ক্ষেত্রবিশেষে লিভ-ইন সম্পর্কে থাকা মহিলারাও এবার সেই একই আইনের আওতায় এলেন।
সব লিভ-ইন সম্পর্কের ক্ষেত্রে কি এই নিয়ম প্রযোজ্য?
শীর্ষ আদালতের বিচারপতি নংমেইকাপাম কোটিশ্বর সিং এবং বিচারপতি সঞ্জয় করোলের বেঞ্চ অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে যে, সব ধরনের লিভ-ইন সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই নিয়ম খাটবে না। কেবল যেসব লিভ-ইন সম্পর্কে ভবিষ্যতে একে অপরের সঙ্গে বিয়ের স্পষ্ট উদ্দেশ্য বা প্রতিশ্রুতি ছিল এবং যাঁরা সমাজ বা পরিবারের কাছে স্বামী-স্ত্রীর মতো একসঙ্গে বসবাস করছিলেন, কেবল সেখানেই এই বিশেষ নির্দেশ কার্যকর হবে।
আদালতের যুক্তি, আইনিভাবে বিবাহিত একজন মহিলা যদি স্বামীর অত্যাচারের বিরুদ্ধে আইনি সুরক্ষা পান, অথচ বিয়ের পাকা কথা দিয়ে বা প্রতিশ্রুতি দিয়ে গড়ে ওঠা লিভ-ইন সম্পর্কের একটি মহিলা সেই অধিকার থেকে বঞ্চিত হন— তবে তা ভারতীয় সংবিধানের ১৪ নম্বর অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ‘সাম্যের অধিকার’-কে মারাত্মকভাবে আঘাত করে।
আদালতের পর্যবেক্ষণ ও মামলার প্রেক্ষাপট
বেঞ্চের স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ, ৪৯৮এ ধারার মূল লক্ষ্যই হল স্বামী বা তাঁর পরিবারের অত্যাচার, নির্যাতন ও মানসিক যন্ত্রণার হাত থেকে দেশের সকল মহিলাকে রক্ষা করা। তাই কেবল আইনি বিয়ের পরেই গার্হস্থ্য হিংসা হতে পারে, তার আগে নয়— এমন সংকীর্ণ মানসিকতা বা ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। ঘরোয়া হিংসা আটকানোর ক্ষেত্রে আইনিভাবে বিবাহিত মহিলা এবং ‘বিয়ে সদৃশ’ লিভ-ইন সম্পর্কে থাকা মহিলাদের আলাদা চোখে দেখার কোনো যৌক্তিকতা নেই বলেও মন্তব্য করেছে শীর্ষ আদালত।
প্রসঙ্গত, কর্ণাটক হাইকোর্টের একটি মামলার প্রেক্ষিতে এক ব্যক্তি আইনি লড়াইয়ে যুক্তি দিয়েছিলেন যে, যেহেতু তিনি এবং তাঁর সঙ্গী আইনিভাবে বিবাহিত নন এবং তাঁরা কেবল লিভ-ইন সম্পর্কে ছিলেন, তাই তাঁর বিরুদ্ধে ৪৯৮এ ধারায় কোনো ফৌজদারি মামলা দায়ের করা যায় না। কর্ণাটক হাইকোর্ট সেই ব্যক্তির এই যুক্তি ও আবেদন সরাসরি খারিজ করে দিয়েছিল। পরবর্তীতে সেই মামলার রায়ের বিরুদ্ধেই সুপ্রিম কোর্টে যাওয়া হয়, যেখানে শীর্ষ আদালত কর্ণাটক হাইকোর্টের রায়কেই সম্পূর্ণ বহাল রাখল।