ঝাড়খণ্ডেই লুকিয়ে আছে আস্ত এক ‘মঙ্গল গ্রহ’! লাল পাথর ও গভীর উপত্যকার এই জাদুকরী জায়গার খোঁজ মিলল সোশ্যাল মিডিয়ায়

আপনি যদি ইনস্টাগ্রামে এমন কোনো রোমাঞ্চকর ভিডিও দেখে থাকেন, যেখানে লাল রঙের পাথর আর গভীর উপত্যকাকে দেখে হুবহু লাল গ্রহ বা ‘মঙ্গল গ্রহ’ (Mars)-এর মতো মনে হচ্ছে, তবে আর অবাক হওয়ার কিছু নেই। কারণ ভিনগ্রহের মতো দেখতে এই জাদুকরী ও রহস্যময় দৃশ্যটি অন্য কোনো দেশের নয়, বরং আমাদের দেশেরই ঝাড়খণ্ড রাজ্যের এক সুপ্ত সৌন্দর্য। বর্তমানে এই চোখ জুড়ানো ভিডিওটি ইন্টারনেটে দাবানলের মতো ভাইরাল হয়ে গিয়েছে।
কোন জায়গার ভিডিও এটি?
ভ্রমণপ্রেমী ও জনপ্রিয় ভিডিয়োগ্রাফার ফাহাদ হায়দার তাঁর ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেল (@cinematicfahad)-এ এই আকর্ষণীয় ভিডিওটি শেয়ার করেছেন, যা ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় লক্ষাধিক ভিউ কুড়িয়ে নিয়েছে। কমেন্ট বক্সে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে নেটিজেনরা রীতিমতো বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। এক ঝাড়খণ্ডের স্থানীয় বাসিন্দা মন্তব্য করেছেন, “আমি নিজেই ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা, কিন্তু আজ পর্যন্ত এই সুন্দর জায়গাটির কথা জানতাম না।” অন্য একজন লিখেছেন যে, এখানকার পাথরগুলি অত্যন্ত মিহি বেলেপাথর দিয়ে তৈরি, যা দূর থেকে দেখলে আক্ষরিক অর্থেই অন্য কোনো গ্রহের জিনিসের মতো মনে হয়।
জায়গাটির আসল পরিচয়
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া এই আকর্ষণীয় স্থানটি ‘বান্দারু খাইভা জলপ্রপাত’ (Bandaru Khaiva Waterfall) নামে পরিচিত, যা স্থানীয়ভাবে ‘খাইভা পিকনিক স্পট’ নামেই বেশি খ্যাত। এটি ঝাড়খণ্ডের চাতরা (Chatra) জেলার লাভালাং ব্লকে অবস্থিত। এখানকার অনন্য ভূপ্রকৃতির কারণে স্থানীয় মানুষ ভালোবেসে এই স্থানটিকে ‘মঙ্গলের উপত্যকা’ (Valley of Mars) বলেও ডেকে থাকেন।
এখানকার বিশেষত্ব কী?
এই জায়গার প্রধান আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হলো এর অদ্ভুতদর্শন লাল, এবড়োখেবড়ো পাথরগুলি। সেগুলি দেখলে এক মুহূর্তের জন্য মনে হতেই পারে যে আপনি বুঝি সত্যিই কোনো ভিনগ্রহে এসে পড়েছেন। এই পাথরগুলির অনন্য গঠন এবং আকৃতি নিয়ে স্থানীয় মানুষের মধ্যে নানা লোককথা রয়েছে। অনেকেরই বিশ্বাস, এই অদ্ভুত আকৃতির পাথরগুলি স্বয়ং ভগবান বিশ্বকর্মার সৃষ্টি। এর পাশাপাশি, এই গভীর উপত্যকার বুক চিরে বয়ে চলা স্বচ্ছ ফাল্গু নদী এখানকার সামগ্রিক প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে বহুগুণ বাড়িয়ে তুলেছে।
কীভাবে পৌঁছবেন এই অজানার দেশে?
দূরত্ব: এই দর্শনীয় স্থানটি চাতরা জেলা সদর থেকে মাত্র ১২ কিলোমিটার এবং রাজ্যের রাজধানী রাঁচি থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
সতর্কতা: এখানকার যাতায়াতের রাস্তাটি বেশ সুন্দর হলেও অনেকাংশেই কাঁচা এবং কিছুটা দুর্গম প্রকৃতির। তাই আপনি যদি বর্ষাকালে বা বৃষ্টির দিনে এখানে ভ্রমণের পরিকল্পনা করেন, তবে অবশ্যই বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।