বিজেপির দুর্গে থাবা বসিয়ে মোদীকে সোজাসাপ্টা হুঁশিয়ারি প্রশান্ত কিশোরের! বাঁকিপুরে জয় পেতেই বললেন…

বিহারে উপনির্বাচনে একেবারে বিজেপির পোক্ত গড়ে থাবা বসালেন জন সূরয পার্টির (JSP) প্রতিষ্ঠাতা প্রশান্ত কিশোর (Prashant Kishor)। বিহারের মর্যাদাপূর্ণ বাঁকিপুর বিধানসভা কেন্দ্রে দুর্দান্ত জয়লাভ করার পর এবার সরাসরি দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উদ্দেশে এক কড়া ও জোরালো বার্তা দিলেন তিনি। বিজেপির এই অপ্রত্যাশিত পরাজয়কে মোদীর জন্য একটি বড় ‘ওয়েক-আপ কল’ বা সতর্কবার্তা হিসেবে উল্লেখ করেছেন পিকে।

প্রধানমন্ত্রীকে মোদীর প্রতি প্রশান্তর কড়া বার্তা
বাঁকিপুর থেকে জয়ী হওয়ার পর সোমবার নিজের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করে প্রশান্ত কিশোর বলেন, “এটি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্য একটি সতর্কবার্তা। বিহারের এমন একজন মুখ্যমন্ত্রী প্রয়োজন, যিনি শিক্ষার মানোন্নয়ন করতে পারবেন, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারবেন এবং কাজের সন্ধানে মানুষের রাজ্য ছেড়ে চলে যাওয়া রোধ করতে পারবেন। আমাদের লক্ষ্য ঠিকাদারি কাজের জন্য বিধায়ক হওয়া নয়, বরং বিহারের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা।”

তিনি আরও স্পষ্ট করে জানান, বাঁকিপুরকে রাতারাতি বেঙ্গালুরু বানিয়ে ফেলার মতো কোনো অসম্ভব বা বড় প্রতিশ্রুতি তিনি দেবেন না। তবে একজন দায়িত্বশীল বিধায়ক হিসেবে পরিস্থিতির উন্নয়নে তিনি সর্বাত্মক চেষ্টা করবেন এবং মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই মানুষ সেই ইতিবাচক পরিবর্তন দেখতে পাবেন। তাঁর মতে, বাঁকিপুরের এই জয়ের পেছনে রয়েছে বিজেপি, কংগ্রেস ও আরজেডি-র একদল অসন্তুষ্ট সমর্থকের পরোক্ষ সমর্থন এবং নতুন প্রজন্মের ‘জেন জি’ (Gen Z) ভোটারদের ক্ষোভ ও বিক্ষোভ।

বিজেপির দুর্গে ঐতিহাসিক ধস
২০২৫ সালের নভেম্বরের বিধানসভা নির্বাচনের পর বিজেপির কাছে এই উপনির্বাচন ছিল প্রেস্টিজ ফাইট বা মর্যাদার লড়াই। মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার রাজ্যসভায় চলে যাওয়ার পর সম্রাট চৌধুরীর নেতৃত্বে এটি ছিল প্রথম বড় নির্বাচনী পরীক্ষা। বাঁকিপুর আসনে প্রশান্ত কিশোরের দলের প্রার্থী বিজেপির হেভিওয়েট প্রার্থী নীরজ কুমার সিনহাকে প্রায় ১৯,৩২৪ ভোটে পরাজিত করেছেন। ২০১০ সালে এই আসনটি গঠিত হওয়ার পর থেকেই এটি বিজেপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল এবং দীর্ঘদিন এটি নীতিন নবীনের দখলে ছিল।

উল্লেখ্য, এটি জন সূরয পার্টি (JSP)-র প্রথম কোনো নির্বাচনে জয়। এর আগে ২০২৫ সালের বিধানসভা নির্বাচনে দলটি ২৩৮টি আসনে লড়াই করলেও খাতা খুলতে পারেনি এবং মাত্র ৪ শতাংশ ভোট পেয়েছিল। তবে এবার প্রথমবার ময়মদানে নেমেই ৩ দশকের বেশি সময় পর বিজেপির হাত থেকে এই দুর্গ ছিনিয়ে নিয়ে এল পিকে-র দল। প্রশান্তর দাবি, এই জয় আদতে বাঁকিপুরের সাধারণ মানুষের জয়। নির্বাচনের আগেই তিনি বলেছিলেন যে এটি স্রেফ একজন বিধায়ক নির্বাচনের লড়াই নয়। ভোটাররাই সরাসরি বিজেপি নেতৃত্বকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, বিহারের শাসনভার সামলাতে এবং মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে কোনো অপরাধী নয়, বরং একজন যোগ্য ও ভালো মানুষকে বেছে নেওয়া উচিত।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *