“আমাদের বহু নেতা তোলাবাজির মধুতে আসক্ত!” নতুন সরকারের অন্দরেই বিস্ফোরক দিলীপ ঘোষ, শোরগোল রাজ্যে

বাংলায় পালাবদল ঘটেছে। বিধানসভা নির্বাচনের পর ক্ষমতায় আসা নতুন বিজেপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স নীতি’ নেওয়ার কথা বারবার ঘোষণা করেছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে—সরকার বদলালেও কি আদৌ কমেছে তোলাবাজির দাপট? সম্প্রতি বিজেপি নেতাদের নাম জড়িয়ে বিক্ষিপ্ত কিছু ঘটনার পর এই প্রশ্নটাই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে রাজনৈতিক মহলে। তোলাবাজি রুখতে গত ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য থেকে শুরু করে হেভিওয়েট মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ এবং অগ্নিমিত্রা পাল—প্রত্যেকেই দলের অন্দরে কড়া বার্তা দিতে বাধ্য হয়েছেন।
দলের নেতাদের নিয়েই বিস্ফোরক মন্তব্য দিলীপ ঘোষের
রাজ্যে তোলাবাজির সংস্কৃতি নিয়ে বলতে গিয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে একেবারে বোমা ফাটিয়েছেন রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়নমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। দলের অন্দরের একাংশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি সাফ বলেন, “আমাদের বহু নেতা তোলাবাজির মধুতে আসক্ত।” অন্যদিকে, দলের মধ্যে যে এখনও এই ব্যাধি পুরোপুরি নির্মূল করা যায়নি, তা অকপটে স্বীকার করে নিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও। তিনি জানান, “সমস্ত কিছুর সমাধান করা যায়নি। আমি আমার দলের পক্ষ থেকে যদি দাঁড়িয়ে আপনাদের সামনে বলি যে আমি সমস্ত জায়গায় তোলাবাজি বন্ধ করে দিতে পেরেছি, ভুল বলছি। বিচ্যুতি আছে।” ### কড়া হুঁশিয়ারি রাজ্য নেতৃত্বের
এই ‘অসুখ’ সারাতে নেতা ও কর্মীদের চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শমীক ভট্টাচার্য ও দিলীপ ঘোষ। বিজেপির রাজ্য সভাপতি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, “প্রোমোটারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে পার্টি আপনাকে ছাড়বে না। সে পুলিশই হোক, আর বিজেপির কোনো নেতাই হোক—কাউকে প্রটেকশন দিতে গেলে আর মিউনিসিপ্যালিটি অফিসে যাতায়াত বাড়িয়ে দিলে পার্টি তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। যা করবে সরকার করবে, কিন্তু পার্টি আপনাকে রেয়াত করবে না।” মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও এর আগে বারবার স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, দুর্নীতিতে যে বা যারা জড়িত থাক না কেন, সরকার তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে। কিন্তু এরপরেও দলের একাংশের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ ওঠায় অস্বস্তি বাড়ছে শাসকশিবিরে।
বিরোধীদের কটাক্ষ
তোলাবাজির এই অভ্যন্তরীণ বিতর্ককে হাতিয়ার করে ময়দানে নেমে পড়েছে বিরোধী শিবিরও। কটাক্ষের সুরে ‘কালীঘাট তৃণমূল’-এর বিধায়ক ও মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, “তিন মাস হয়নি একটা সরকারের, সেখানে শীর্ষ নেতৃত্বকে বলতে হচ্ছে—তোলাবাজি নয়, তোলাবাজি নয়, তোলাবাজি নয়! তাহলে আপনারা এইটাই প্রমাণ করে দিচ্ছেন যে, বিজেপির একটা বড় অংশ এই তোলাবাজিতে ঢুকে গেছে। তৃণমূলের সময় যে দু-তিনজন তোলাবাজিতে নাম করেছিল, তাদের থেকেও বেশি তোলা তুলছে এরা।”
তৃণমূল আমলে ‘সিন্ডিকেট’, ‘তোলাবাজি’ এবং ‘কাটমানি’ শব্দগুলো রাজ্যের রাজনীতিতে নিয়মিত চর্চার বিষয় ছিল। কিন্তু রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরেও কি সেই পুরনো সংস্কৃতি থেকে পুরোপুরি মুক্ত হতে পেরেছে রাজ্য? না কি এই তোলাবাজির অসুখ নতুন সরকারের জমানাতেও অস্বস্তির বড় কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে? এই প্রশ্নই এখন ভাবাচ্ছে সাধারণ মানুষকে।