অবৈধ পাচারের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ! রাজ্যের ১১টি বেসরকারি ব্লাড সেন্টারের রক্তদান শিবিরে বড় নিষেধাজ্ঞা

পশ্চিমবঙ্গ থেকে ভিন রাজ্যে অবৈধভাবে রক্ত ও প্লাজমা পাচারের মারাত্মক অভিযোগের জেরে চরম তোলপাড় শুরু হয়েছে চিকিৎসা মহলে। এই অভিযোগের গুরুত্ব বিচার করে রাজ্যের ১১টি পরিচিত বেসরকারি ব্লাড সেন্টারের বাইরে আউটডোর স্বেচ্ছায় রক্তদান শিবির আয়োজনের উপর সাময়িক বিধিনিষেধ জারি করেছে স্টেট ব্লাড ট্রান্সফিউশন কাউন্সিল, পশ্চিমবঙ্গ (SBTC)। স্বাস্থ্য দফতরের অধীনস্থ এই কাউন্সিলের অভ্যন্তরীণ তদন্ত সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত এই নির্দেশ বলবৎ থাকবে।

আজ, ১ অগস্ট ২০২৬ থেকে সংশ্লিষ্ট ব্লাড সেন্টারগুলির উপর এই কড়া বিধিনিষেধ কার্যকর করা হয়েছে।

সম্পূর্ণ বন্ধ হচ্ছে না ব্লাড সেন্টার, রইল বিশেষ নির্দেশ

স্বাস্থ্য ভবন থেকে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে, অভিযুক্ত ব্লাড সেন্টারগুলিকে পুরোপুরি বন্ধ করা হচ্ছে না। সাধারণ রোগীদের পরিষেবা স্বাভাবিক রাখতে তারা নিজস্ব কেন্দ্রের ভিতরে রক্ত সংগ্রহ ও অন্যান্য কার্যক্রম চালাতে পারবে। তবে এক্ষেত্রে কঠোর কিছু শর্ত মানা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে:

  • অভিজ্ঞ কর্মী: সেন্টারের ভিতরে রক্ত সংগ্রহের কাজে শুধুমাত্র অভিজ্ঞ ও দক্ষ কারিগরি কর্মী নিয়োগ করতে হবে।

  • নিয়ম মানা বাধ্যতামূলক: ন্যাশনাল ব্লাড ট্রান্সফিউশন কাউন্সিল (NBTC), ডিরেক্টরেট জেনারেল অব হেলথ সার্ভিসেস (DGHS), এবং স্টেট ব্লাড ট্রান্সফিউশন কাউন্সিল (SBTC)-এর সমস্ত নির্দেশিকা ও ‘ড্রাগস কন্ট্রোল রুলস’ শতভাগ মেনে চলা বাধ্যতামূলক।

রক্তের ‘বাল্ক ট্রান্সফার’ রুখতেও কড়া পদক্ষেপ

শিবির আয়োজনে নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি রাজ্যে রক্তের অবাধ স্থানান্তর বা পাচার রুখতেও বড় পদক্ষেপ নিয়েছে প্রশাসন। নতুন নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের ভৌগোলিক সীমানার ভিতরে কোনও ব্লাড সেন্টার যদি বিপুল পরিমাণ রক্তের ‘বাল্ক ট্রান্সফার’ করতে চায়, তবে সেক্ষেত্রে আবশ্যিকভাবে আগে থেকেই SBTC-কে লিখিতভাবে জানাতে হবে। আগাম তথ্য না দিয়ে কোনও রকম বাল্ক ট্রান্সফার করা যাবে না।

যে ১১টি বেসরকারি ব্লাড সেন্টারের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি হলো:

১. ইস্পাত কো-অপারেটিভ হাসপাতাল ব্লাড সেন্টার, সোনারপুর

২. লাইফ কেয়ার ব্লাড সেন্টার, এন্টালী

৩. অশোক ল্যাবরেটরি ব্লাড সেন্টার

৪. কোঠারি মেডিক্যাল সেন্টার ব্লাড সেন্টার

৫. হেলথ পয়েন্ট হাসপাতাল ব্লাড সেন্টার

৬. ওম ব্লাড সেন্টার

৭. HMC রোটারি ব্লাড সেন্টার

৮. কৃষ্ণনগর ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস ব্লাড সেন্টার

৯. উপসম ওম ব্লাড সেন্টার

১০. তেরেসা ওম ব্লাড সেন্টার

১১. রানিগঞ্জ ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস ব্লাড সেন্টার

জনস্বার্থেই এই কড়া পদক্ষেপ

স্বাস্থ্য দফতরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সম্পূর্ণ জনস্বার্থে এবং রাজ্যজুড়ে রক্ত সংগ্রহ ব্যবস্থায় নির্ধারিত মান ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রক্ত পাচারের মতো গুরুতর অভিযোগের তদন্ত নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করতেই এই সাময়িক স্থগিতাদেশ জারি করা হয়েছে। SBTC ও BTS-এর যুগ্ম অধিকর্তার (Joint Director) স্বাক্ষরিত এই নির্দেশনামার পরেই রাজ্যের রক্ত ব্যাঙ্কগুলির সামগ্রিক পরিস্থিতি ও পরিকাঠামো খতিয়ে দেখতে বিশেষ তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করেছে স্বাস্থ্য দফতর।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *