পহেলগাঁও কাণ্ডের পুনরাবৃত্তি কাশ্মীরে! নাম জেনে বেছে বেছে পরিযায়ী শ্রমিকদের খুন, রক্তে ভিজল কুলগাম

৩৭০ ধারা বাতিলের বার্ষিকীর ঠিক আগে ফের রক্ত ঝরল উপত্যকায়। জম্মু-কাশ্মীরের কুলগামে শুক্রবার বিকেলে এক ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় প্রাণ হারালেন এক পরিযায়ী শ্রমিক। এই হামলায় গুলিবিদ্ধ হয়ে আরও এক শ্রমিক বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং তাঁর অবস্থাও অত্যন্ত সঙ্কটজনক। বেছে বেছে সংখ্যালঘু ও ভিনরাজ্যের শ্রমিকদের নিশানা করার এই ঘটনায় গোটা এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
কীভাবে ঘটেছিল এই হামলা?
পুলিশ ও গোয়েন্দা সূত্রে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, ছত্তীসগঢ় থেকে রুটি-রুজির সন্ধানে কাশ্মীরে কাজ করতে গিয়েছিলেন দীপক কুমার ও ভূপিন্দর সিংয়ের মতো পরিযায়ী শ্রমিকরা। শুক্রবার বিকেলে কুলগামের একটি ইটভাটার কাছে বেশ কয়েকজন শ্রমিক একসঙ্গে ছিলেন।
হঠাৎই অস্ত্রধারী জঙ্গিরা সেখানে হানা দেয়। সূত্রের খবর, পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার হুবহু ধাঁচেই শ্রমিকদের সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে তাদের নাম জিজ্ঞাসা করা হয়। হিন্দু নাম সামনে আসতেই দীপক ও ভূপিন্দরকে লক্ষ্য করে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে এলোপাথাড়ি গুলি চালায় জঙ্গিরা। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় দীপকের। গুরুতর জখম অবস্থায় ভূপিন্দরকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
লস্করের হাত রয়েছে বলে প্রাথমিক অনুমান
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, হামলার সময় ওই এলাকায় আরও অনেক পরিযায়ী শ্রমিক উপস্থিত থাকলেও জঙ্গিরা সুনির্দিষ্ট ছক কষেই কেবল ওই দুই হিন্দু শ্রমিককে টার্গেট করেছিল। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশের জোরালো সন্দেহ, এই কাপুরুষোচিত হামলায় একজন স্থানীয় এবং একজন বিদেশি জঙ্গি যুক্ত ছিল। লস্কর-ই-তৈবা (LeT)-র সঙ্গে যুক্ত মহম্মদ লতিফ নামে এক স্থানীয় জঙ্গি গত বছরই এই সংগঠনে নাম লিখিয়েছিল বলে জানা যাচ্ছে।
আগামী ৫ অগস্ট অনুচ্ছেদ ৩৭০ (Article 370) বাতিলের বার্ষিকী। তার ঠিক আগে নাশকতার ছক কষেই এই হামলা চালানো হয়েছে বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল। বিগত ১০ দিনে এটি দ্বিতীয় বড় জঙ্গি হামলা। গত সপ্তাহেই অনন্তনাগে এক পুলিশকর্মীকে গুলি করে হত্যা করেছিল জঙ্গিরা। ঘটনার পর থেকেই পুরো এলাকা কর্ডন করে চিরুনি তল্লাশি চালাচ্ছে যৌথ বাহিনী। পলাতক জঙ্গিদের খোঁজে চলছে মেগা অপারেশন।