এনসিপিআইয়ের ভবিষ্যৎ থেকে এলাকার উন্নয়ন! প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে শতাব্দী রায়ের বৈঠককে ঘিরে জল্পনা তুঙ্গে

সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে একান্তে সাক্ষাৎ করলেন ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া (NCPI)-র সাংসদ শতাব্দী রায়। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ সংসদের প্রধানমন্ত্রীর কক্ষে এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। সূত্রের খবর, প্রায় ১৫ মিনিট ধরে দু’জনের মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে।

কী নিয়ে আলোচনা হল বৈঠকে?

রাজনৈতিক মহলের জল্পনা উসকে এই বৈঠকে প্রধানত এনসিপিআই-এর ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতি এবং শতাব্দী রায়ের নিজের লোকসভা কেন্দ্রের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলেই জানা যাচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দ্বিতীয়বার কোনও এনসিপিআই সাংসদের এভাবে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পৃথকভাবে সাক্ষাৎ করার নেপথ্যে বড় কোনো রাজনৈতিক সমীকরণ থাকতে পারে। তবে এই বৈঠক প্রসঙ্গে এখনও পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বা শতাব্দী রায়—উভয় পক্ষের তরফেই কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি জারি করা হয়নি।

এনডিএ-র ‘মঙ্গল মিলন’ ও এনসিপিআই সাংসদরা

এর আগে গত মঙ্গলবারই সংসদের এক বিশেষ ‘মঙ্গল মিলন’ কর্মসূচিতে এনডিএ-র শাসক শিবিরে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয় তৃণমূল ছেড়ে সদ্য গঠিত ‘NCPI’-তে যোগ দেওয়া সাংসদদের। সেদিন থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে এনডিএ-র শরিক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে এই নতুন রাজনৈতিক দল।

সেদিনের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে প্রথম সারিতে বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে দেখা গেলেও, ঠিক দ্বিতীয় সারিতেই উপস্থিত ছিলেন শতাব্দী রায়, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শর্মিলা সরকাররা। বৈঠকের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী নিজে উপস্থিত থেকে সাংসদদের নাম ধরে ধরে পরিচয় পর্ব সারেন এবং সকলের সঙ্গে আলাদা করে কথা বলেন।

বৈঠক শেষে বেরিয়ে আসার পর জুন মালিয়া, শতাব্দী রায় ও শর্মিলা সরকারদের গলায় শোনা গিয়েছিল একই সুর। তাঁদের বক্তব্য ছিল, এই ধরনের সুশৃঙ্খল রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা তাঁদের আগে কখনও হয়নি। খোদ প্রধানমন্ত্রীর এত কাছাকাছি পৌঁছানো এবং তাঁর মুখে নিজের নাম ধরে কথা বলায় আপ্লুত হয়েছিলেন এনসিপিআই-এর সমস্ত মহিলা সাংসদরা। তবে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শতাব্দী রায়ের এই দীর্ঘ ১৫ মিনিটের একক বৈঠক রাজ্য রাজনীতির অঙ্গনে নতুন করে জল্পনার সৃষ্টি করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *