অপরাধে ব্যবহৃত অ্যাম্বুলেন্স নিলাম করে মিলবে ক্ষতিপূরণ! জঙ্গিপুর আদালতের রায়ে স্বস্তিতে নির্যাতিতার পরিবার

করোনা আবহের মধ্যে পথচলতি এক নাবালিকাকে অ্যাম্বুলেন্সে তুলে অপহরণ করে দফায় দফায় পৈশাচিক যৌন নির্যাতন চালানোর ঘটনায় দুই অভিযুক্তকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিল জঙ্গিপুর মহকুমা আদালত। দীর্ঘ আইনি লড়াই ও সিবিআই (CBI) তদন্তের পর গত বুধবার ৩১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যের ভিত্তিতে এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করা হয়। আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, দোষীদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি সাড়ে ১৭ লক্ষ টাকা জরিমানা ও ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এমনকি অপরাধে ব্যবহৃত অ্যাম্বুলেন্সটি নিলাম করে প্রাপ্ত অর্থও নির্যাতিতার পরিবারকে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

ঠিক কী ঘটেছিল ২০২১ সালে?

সিবিআইয়ের আইনজীবী অমিতাভ মৈত্র জানান, ২০২১ সালের ১০ জুন ফরাক্কা ব্যারেজের ঠিক আগে বৈষ্ণবনগরের এক নাবালিকা মামার বাড়ি থেকে হেঁটে নিজের বাড়ি ফিরছিল। সেই সময় সৈয়দ টারজান হোসেন ও করিম শেখ নামের দুই ব্যক্তি একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে এসে ওই নাবালিকাকে জোর করে তুলে নিয়ে যায়। প্রথমে একটি পরিত্যক্ত জায়গায় নিয়ে গিয়ে অ্যাম্বুলেন্সের ভেতরেই তার উপর যৌন নির্যাতন চালানো হয়।

পরবর্তীতে গাড়িটিকে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরিয়ে এলাকার একটি হাসপাতালের চালকদের কোয়ার্টারে নিয়ে গিয়ে ফের পৈশাচিক অত্যাচার চালানো হয়। নির্যাতিতার উপর আরও নৃশংসতা চালিয়ে তাঁকে ঠান্ডা পানীয়ের সঙ্গে অ্যালকোহল ও গর্ভনিরোধক ওষুধ খাইয়ে দেওয়া হয় এবং তাঁর বেশ কিছু আপত্তিকর ছবিও তুলে ব্ল্যাকমেল করা হয়। এরপর পরের দিন ভোর চারটে নাগাদ ওই একই অ্যাম্বুলেন্সে করে নির্যাতিতাকে বৈষ্ণবনগর থানা চত্বরে ফেলে দিয়ে পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা। এই ঘটনায় সেই সময় রাজ্যজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল।

সিবিআই তদন্ত ও আদালতের রায়

প্রাথমিকভাবে পুলিশ এই ঘটনায় দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করলেও পরবর্তীতে মামলার তদন্তভার তুলে দেওয়া হয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই-এর হাতে। জঙ্গিপুর আদালতে এই মামলায় মোট ৩১ জন সাক্ষীর বয়ান রেকর্ড করা হয়।

সমস্ত তথ্যপ্রমাণ ও সাক্ষ্য খতিয়ে দেখে জঙ্গিপুর মহকুমা আদালত দুই অভিযুক্ত সৈয়দ টারজান হোসেন ও করিম শেখকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা শোনায়। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, নির্যাতিতা পরিবারকে সাড়ে ১৭ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। পাশাপাশি, যে অ্যাম্বুলেন্সটি ব্যবহার করে এই জঘন্য অপরাধ সংঘটিত হয়েছিল, সেটিকে নিলামে বিক্রি করে যে অর্থ পাওয়া যাবে, তা সরাসরি নির্যাতিতার পরিবারকে দেওয়ার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *