‘প্রত্যর্পণের আবেদন খতিয়ে দেখা হচ্ছে…’ বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে সংসদে সাফ জানাল কেন্দ্র

বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে অত্যন্ত স্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন অবস্থান নিল ভারত সরকার। নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে শেখ হাসিনাকে কোনও রকম রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, প্রচার বা তৎপরতা চালানোর অনুমতি দেওয়া হয়নি এবং ভবিষ্যতেও সেই অনুমতি দেওয়া হবে না।
সংসদের বিদেশ বিষয়ক স্থায়ী কমিটিকে দেওয়া একটি লিখিত প্রতিবেদনে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেছে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকার। কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুরের নেতৃত্বাধীন ওই সংসদীয় কমিটির রিপোর্টে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ভারত সরকার ঐতিহ্যগত মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি ও বিপন্ন মানুষকে আশ্রয় দেওয়ার নীতি মেনেই হাসিনাকে ভারতে অবস্থান করার সুযোগ দিয়েছে। তবে একই সঙ্গে ভারত তার বৈদেশিক নীতির অন্যতম মূল শর্তে অবিচল রয়েছে— দেশের মাটি থেকে অন্য কোনও দেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কার্যকলাপ বা উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ড কিছুতেই বরদাস্ত করা হবে না।
প্রত্যর্পণ আবেদন নিয়ে কী জানাল কেন্দ্র?
সংসদীয় কমিটির প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে যে, বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের তরফ থেকে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য যে প্রত্যর্পণের (Extradition) আনুষ্ঠানিক আবেদন জানানো হয়েছে, তা বর্তমানে গুরুত্বের সঙ্গে বিচার-বিবেচনা করে দেখছে ভারত। আন্তর্জাতিক আইন, ভারতের নিজস্ব প্রচলিত আইনি পরিকাঠামো এবং দুই দেশের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত পারস্পরিক নিয়ম-কানুন মেনেই এই বিষয়ে সমস্ত পদক্ষেপ করা হবে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তীব্র গণ-আন্দোলনের মুখে পড়ে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর থেকেই তিনি ভারতে অবস্থান করছেন। সম্প্রতি তাঁর একটি সাক্ষাৎকারে জল্পনা তৈরি হয়েছিল যে, চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসেই তিনি বাংলাদেশে ফিরে গিয়ে আইনি লড়াই ও আদালতের মুখোমুখি হতে চান। অন্যদিকে, বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাঁর অনুপস্থিতিতেই বিচার প্রক্রিয়া চালিয়ে কড়া সাজা ঘোষণা করেছে। এমন এক অত্যন্ত সংবেদনশীল ও জটিল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ভারত সরকারের এই কঠোর ও ভারসাম্যপূর্ণ বার্তা আন্তর্জাতিক মহলে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।