ড্রোন হামলার দিনশেষ! আকাশে উড়েই ড্রোন ধ্বংস করবে ভারতীয় বিমান বাহিনীর কপ্টার, আসছে এআই ও মাইক্রো-মিসাইল!

ড্রোন ও লোইটারিং মিউনিশনের ক্রমবর্ধমান হুমকির মুখে আকাশ সুরক্ষায় এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের পথে হাঁটছে ভারতীয় বিমান বাহিনী (IAF)। প্রচলিত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বাইরে বেরিয়ে এবার আকাশ থেকেই ড্রোন প্রতিহত করার অভিনব প্রস্তুতি শুরু করেছে আইএএফ। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভারতীয় বিমান বাহিনীর অ্যাটাক হেলিকপ্টারগুলোকে এয়ার-টু-এয়ার ড্রোন-বিরোধী প্ল্যাটফর্মে রূপান্তর করা হচ্ছে।
আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে ছোট ড্রোন ও কামিকাজে ড্রোনের দাপট রুখতে কপ্টারগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ভিত্তিক রাডার, মাইক্রো-মিসাইল, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার (EW) সিস্টেম এবং অত্যাধুনিক জ্যামিং পড স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
হেলিকপ্টারে থাকছে যেসব মারণাস্ত্র ও প্রযুক্তি:
এআই-ভিত্তিক রাডার: ছোট এবং কম রাডার ক্রস-সেকশনযুক্ত ড্রোনগুলো সহজে শনাক্ত ও ট্র্যাক করতে হেলিকপ্টারে যুক্ত করা হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত রাডার।
মাইক্রো-মিসাইল ও ফ্রন্ট গান: ধীরগতির ড্রোন ও আকাশী হুমকি ধ্বংস করতে থাকছে বিশেষ মাইক্রো-মিসাইল এবং একটি ২০ মিলিমিটারের ফ্রন্ট গান। প্রক্সিমিটি ফিউজযুক্ত এই মাইক্রো-মিসাইলগুলো লক্ষ্যবস্তুর কাছাকাছি মাঝ-আকাশে বিস্ফোরিত হয়ে প্রায় ২৫ মিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে ড্রোনগুলোকে টুকরো টুকরো করে দিতে সক্ষম।
ইলেকট্রনিক জ্যামার: হালকা ওজনের আরএফ (RF) ও জিপিএস জ্যামার শত্রু ড্রোনের যোগাযোগ ব্যবস্থা ও দিকনির্দেশনা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দেবে।
দিনের পাশাপাশি রাতের চোখ: ইলেকট্রো-অপটিক্যাল এবং ইনফ্রারেড সেন্সর পড দিন ও রাত—উভয় সময়েই ড্রোন শনাক্তকরণ ও অনুসরণের ক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।
কেন এই পরিবর্তন? ‘অপারেশন সিঁদুর’ ও আন্তর্জাতিক যুদ্ধ থেকে শিক্ষা
সাম্প্রতিক সংঘাত—বিশেষ করে অপারেশন সিঁদুর এবং পশ্চিম এশিয়া ও ইউক্রেনের যুদ্ধ প্রমাণ করেছে যে, ছোট ড্রোন ও লয়টারিং মিউনিশন প্রচলিত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য এক বিরাট চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে পার্বত্য ও পাহাড়ি অঞ্চলে ভূখণ্ডের আড়াল এবং দৃষ্টিসীমার সমস্যার কারণে ভূমি-ভিত্তিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সব হুমকি সময়মতো দেখতে পায় না। এমন পরিস্থিতিতে আকাশে উড়ন্ত হেলিকপ্টারগুলো দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ড্রোনের মূলোৎপাটন করতে পারবে।
নতুন ভূমিকায় অ্যাপাচি ও প্রচণ্ড
ভারতীয় বিমান বাহিনীর বহরে থাকা বিশ্বমানের এএইচ-৬৪ অ্যাপাচি (AH-64 Apache) এবং দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি হালকা যুদ্ধ হেলিকপ্টার বা এলসিএইচ প্রচণ্ড (LCH Prachand)-কে এই কাউন্টার-ইউএএস (Counter-UAS) অভিযানে ব্যবহারের কথা ভাবা হচ্ছে। ফলে এই কপ্টারগুলো কেবল ভূমিতে থাকা শত্রুঘাঁটি ধ্বংস করাই নয়, বরং আকাশেও ড্রোনের বিরুদ্ধে সমানভাবে লড়তে পারবে।
দেশীয় শিল্পের জন্য বিশাল সুযোগ
‘আত্মনির্ভর ভারত’ প্রকল্পের অংশ হিসেবে এই পুরো প্রযুক্তির জন্য দেশীয় প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলোর ওপর ভরসা রাখছে বিমান বাহিনী। এআই-ভিত্তিক অ্যাভিওনিক্স, মাইক্রো-মিসাইল ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধাস্ত্র তৈরির মাধ্যমে ভারত ভবিষ্যতে ড্রোন সোয়ার্ম বা ঝাঁক আক্রমণ মোকাবিলা করার মতো সম্পূর্ণ দেশীয় ও স্বাবলম্বী ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চলেছে।
স্থলভাগের পাশাপাশি আকাশপথ থেকেও বহুস্তরীয় ড্রোন-প্রতিরোধী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার এই পদক্ষেপে ভারতের আকাশসীমা আরও বহু গুণে সুরক্ষিত হবে বলেই মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।