ফুটবল বিশ্বকাপে কবে খেলবে ভারত? রাজ্যের মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষের মন্তব্যে শোরগোল!

অতীতে মহেন্দ্র সিং ধোনি থেকে শুরু করে বর্তমানের তারকা মুখেরা— বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বকেই বিদেশের বিখ্যাত ‘থিয়েটার অফ ড্রিমস’ অর্থাৎ ইংল্যান্ডের ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডের ঘরের মাঠ ওল্ড ট্র্যাফোর্ড স্টেডিয়ামে দেখা গিয়েছে। একইভাবে মাদ্রিদে রোহিত শর্মা, হৃতিক রোশন কিংবা সোনাক্ষী সিনহাদের রিয়াল মাদ্রিদের স্টেডিয়াম সান্তিয়াগো বার্নাবেউ দর্শন করতে দেখা যায়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের এই ক্লাবগুলির স্টেডিয়াম আজ সর্বদাই আন্তর্জাতিক পর্যটকদের কাছে অন্যতম প্রধান আকর্ষণ বা ট্যুরিস্ট স্পট। ঠিক বিদেশের সেই সফল মডেলকেই এবার অনুসরণ করে বাংলার শতাব্দী প্রাচীন ক্লাবগুলিকে পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত করার অভিনব ভাবনার কথা সামনে এল।
পর্যটনের সঙ্গে তিন প্রধানকে জুড়তে চায় রাজ্য
মোহনবাগান দিবসের এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে রাজ্যের পর্যটন মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ স্পষ্ট জানান যে, বিদেশের বিখ্যাত ক্লাবের স্টেডিয়ামগুলির আদলে বাংলার তিন প্রধানকে পর্যটনের মূলস্রোতের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। তবে তাঁর মতে, এই লক্ষ্য পূরণের জন্য সর্বাগ্রে ফুটবলের মান উন্নত করা অত্যন্ত জরুরি। একমাত্র তবেই বাংলার শতাব্দী প্রাচীন গৌরবময় ক্লাবগুলিকে বিশ্বমঞ্চের পর্যটন মানচিত্রে সাফল্যের সঙ্গে তুলে ধরা সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শঙ্কর ঘোষ আরও বলেন, “আমি আশা করি আগামী দিনে ভারত যে দুটি ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি উন্নতি করবে, তার একটি হলো পর্যটন এবং দ্বিতীয়টি অবশ্যই খেলাধুলো। যেখানে কেপ ভার্দে মাত্র পাঁচ লক্ষ মানুষ নিয়ে বিশ্বকাপ খেলে, সেখানে ১৪০ কোটির দেশের দল যখন ফুটবলে বিশ্বমঞ্চে জায়গা পায় না, তখন আক্ষেপ থাকে।” খেলাধুলো ও পর্যটনের প্রসার ঘটাতে সমস্ত ক্লাবকে সঙ্গে নিয়ে একযোগে সংঘবদ্ধভাবে কাজ করার ইচ্ছাপ্রকাশ করেন তিনি।
পাঠ্যসূচিতে ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগানের ইতিহাস?
এদিনের অনুষ্ঠানে কেবল পর্যটনই নয়, স্কুল পাঠ্যসূচিতে কলকাতার দুই প্রধান অর্থাৎ ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগানের ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছেন স্কুল ও শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন। তবে এই বিষয়ে সম্পূর্ণ সিদ্ধান্তটি বিশেষজ্ঞ কমিটির ওপরই ছেড়ে দিচ্ছেন তিনি। শিক্ষামন্ত্রী জানান, “পাঠ্যসূচিতে সেই বিষয়গুলিই যুক্ত করা হবে, যেগুলি নিয়ে বিশেষজ্ঞরা ভাববেন। এর বাইরে গিয়ে এককভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। আমাদের বিশেষজ্ঞ কমিটি এই বিষয়ে প্রস্তাব ও চর্চা করার পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।” বিশ্বমঞ্চে বাংলার ফুটবলকে পৌঁছে দেওয়ার এই যুগান্তকারী পরিকল্পনা এবং শিক্ষায় তার ছোঁয়া লাগার সম্ভাবনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই ক্রীড়াপ্রেমী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ তৈরি হয়েছে।