বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র পদ থেকে ইস্তফা শাহজাদ পুনাওয়ালার! এক্স হ্যান্ডেল থেকে সরালেন দলের নাম

ভারতীয় জনতা পার্টির (BJP) জাতীয় মুখপাত্রের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন শাহজাদ পুনাওয়ালা। ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে তিনি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে নিজের ইস্তফাপত্র জমা দিয়েছেন বলে খবর। এই পদত্যাগের খবর প্রকাশ্যে আসার সঙ্গে সঙ্গেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র জল্পনা শুরু হয়েছে।

ইস্তফা দেওয়ার পরপরই নিজের অফিসিয়াল ‘এক্স’ (X, পূর্বে টুইটার) প্রোফাইল বায়ো আপডেট করেন শাহজাদ। সেখানে বিজেপির সঙ্গে তাঁর সমস্ত সম্পর্কের উল্লেখ মুছে ফেলা হয়েছে। তবে তিনি নিজেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর একজন “জীবনভর অনুগামী” (Lifelong Follower) হিসেবে উল্লেখ করে রেখেছেন, যা তাঁর ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পদক্ষেপ নিয়ে কৌতূহল আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

রাজনৈতিক সফর ও পদত্যাগের ইঙ্গিত
২০১৭ সালে কংগ্রেস পার্টির অভ্যন্তরীণ সভাপতি নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে মতপার্থক্যের জেরে হাত শিবির ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন শাহজাদ পুনাওয়ালা। দলবদলের পরেই তাঁকে বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র হিসেবে নিয়োগ করা হয়। বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন টেলিভিশন বিতর্ক এবং প্রকাশ্য মঞ্চে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে বিজেপি ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পক্ষে সওয়াল করতে দেখা গেছে তাঁকে। পাশাপাশি, কংগ্রেস এবং দলটির শীর্ষ নেতৃত্বকে তীব্র আক্রমণ করার জন্য তিনি সবসময় খবরের শিরোনামে থেকেছেন।

তবে পদত্যাগের আনুষ্ঠানিক খবর সামনে আসার আগেই, শাহজাদ তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে বেশ কিছু পুরোনো সাক্ষাৎকারের ক্লিপ শেয়ার করেছিলেন, যা থেকে স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছিল যে তিনি সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরে সরে যাওয়ার কথা ভাবছেন।

২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে রেকর্ড করা একটি পুরোনো ভিডিও রি-শেয়ার করে তিনি বলেছিলেন, “আমাদের রাজনৈতিক লক্ষ্য এবং নির্বাচনী লক্ষ্যকে এক করে ফেলাটা একটি বড় ভুল। মানুষ মনে করেন যে রাজনৈতিক পদ বা নির্বাচনী লক্ষ্য পূরণ না হলে সমাজ বা দেশের জন্য বুঝি কোনো অবদান রাখা যায় না। এমপি (MP) না হলে কি সমাজ ও রাজনীতিতে আমার কোনো অবদান নেই? আমি কেন সমস্ত শক্তি শুধু এই পদগুলোর পেছনে ছোটার জন্য খরচ করব? সকলেরই ভাবা উচিত দেশের জন্য তাঁরা কী অবদান রাখতে পারেন। কিছু মানুষ নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হয়ে কাজ করেন, আবার কেউ সিস্টেমের বাইরে গিয়েও অবদান রাখেন। তার মানে এই নয় যে আমরা অরাজনৈতিক।”

এর আগে আরেকটি ভিডিও শেয়ার করে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনকেই তিনি তাঁর শেষ নির্বাচন হিসেবে ভেবেছিলেন, এবং এখন তাঁর মনে হচ্ছে সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর সঠিক সময় এসে গেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *