ভোরবেলা নিউটাউন থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে ধেয়ে এল ইডি! কলকাতার একাধিক প্রভাবশালী ব্যবসায়ীর বাড়িতে হঠাৎ কেন এই হানা?

আজ শুক্রবার সকাল থেকে শহর কলকাতার একাধিক অভিজাত এলাকায় হানা দিয়েছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। খিদিরপুর, শর্ট স্ট্রিট-সহ কলকাতার বিভিন্নপ্রান্তে বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যবসায়ীর বাড়িতে পৌঁছে গেছেন তদন্তকারীরা। আর্থিক লেনদেন, গুরুত্বপূর্ণ কাগজের নথি এবং ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ খতিয়ে দেখতে শুরু হয়েছে ম্যারাথন তল্লাশি অভিযান।
ঠিক কী জানা যাচ্ছে এই অভিযান সম্পর্কে?
সূত্রের খবর অনুযায়ী, এদিন ভোর সাড়ে চারটে নাগাদ নিউটাউনের সিআরপিএফ ক্যাম্প থেকে ইডি-র একাধিক বিশেষ দল একে একে বেরিয়ে পড়ে। এরপর শহরের নির্দিষ্ট কিছু গন্তব্যে পৌঁছে শুরু হয় আকস্মিক অভিযান।
ব্যবসায়ীদের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে বিভিন্ন আর্থিক লেনদেনের নথি, অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত কাগজপত্র এবং ল্যাপটপ-মোবাইলের মতো ডিজিটাল তথ্য সংগ্রহ করছেন আধিকারিকরা।
পাশাপাশি, ওই পরিবারগুলির সদস্যদের মুখোমুখি বসিয়ে লাগাতার জিজ্ঞাসাবাদও করা হচ্ছে।
গোটা অভিযানের নিরাপত্তায় সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলিতে মোটায়ন করা হয়েছে ভারী কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান।
কোন মামলার তদন্ত?
প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে, কোনো নতুন ঘটনা নয়, বরং একটি পুরনো আর্থিক কেলেঙ্কারির তদন্তের সূত্র ধরেই এই অভিযান চালানো হচ্ছে। তবে ঠিক কোন মামলার প্রেক্ষিতে এই হানা, সে বিষয়ে এখনও পর্যন্ত ইডি-র তরফে সরকারিভাবে মুখ খোলা হয়নি। কোন কোন ব্যবসায়ীর বাড়িতে এই তল্লাশি চলছে, সেই নামগুলিও এখনও আনুষ্ঠানিকভা্বে প্রকাশ করা হয়নি।
তদন্তকারী সূত্রের একাংশের অনুমান, প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সব্যসাচী দত্ত ও তাঁর এক ঘনিষ্টের বাড়ি থেকে সোনা উদ্ধারের ঘটনার সূত্র ধরেই এই পদক্ষেণ করা হতে পারে। যদিও এই তত্ত্বের কোনো সরকারি বা পাকাপোক্ত সত্যতা এখনও মেলেনি। হঠাৎ এই বড়সড় হানার জেরে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলিতে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এবং সাধারণ মানুষের ভিড় জমতে শুরু করেছে।
রাজ্যে পরপর ইডি-র কড়া পদক্ষেপ
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তে আর্থিক প্রতারণা ও দুর্নীতির অভিযোগে একের পর এক সাঁড়াশি অভিযান চালাচ্ছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।
কিছুদিন আগেই দুর্গাপুরের অন্ডালে ইসিএলের (ECL) প্রাক্তন কর্মী দিলীপ মল্লিকের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছিল ইডি। ক্রিপ্টোকারেন্সিতে মোটা টাকা বিনিয়োগের নামে কোটি কোটি টাকা প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে তাঁর ও তাঁর ছেলে দিগন্ত মল্লিকের বিরুদ্ধে।
এর আগে হাওড়ার কুচিল সরকার লেনের বাসিন্দা সৌরভ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতেও হানা দিয়েছিল ইডি। তদন্তে উঠে আসে, তিনি একাধিক চিটফান্ড সংস্থার পাশাপাশি শেয়ার বাজার সংক্রান্ত ব্যবসার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। সেই সমস্ত মামলার রেশ কাটতে না কাটতেই আজকের এই নতুন অভিযান রাজ্যের রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ী মহলে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছে।