আইআইটি ডিরেক্টরকে ‘গৌমূত্র বিশেষজ্ঞ’ কটাক্ষ! প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে খোলা চিঠি দেশের ২১৫ জন শিক্ষাবিদের

সম্প্রতি সংসদের অধিবেশনে নিট (NEET) ও সামগ্রিক পরীক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে সোচ্চার হয়েছিলেন কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। সেই বক্তৃতাকালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর গঠিত ‘টাস্ক ফোর্স’ নিয়ে প্রশ্ন তুলতে গিয়ে তিনি আইআইটি মাদ্রাসের ডিরেক্টর ভি কামাকোটিকে নিশানা করেন। আর তাঁর সেই মন্তব্য ঘিরেই দেশজুড়ে দানা বেঁধেছে তীব্র বিতর্ক। দেশের অন্যতম সেরা প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষাবিদকে এভাবে কটাক্ষ করার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে এবার খোলা চিঠি পাঠিয়েছেন দেশের ২১৫ জন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ।
শিক্ষাবিদদের চিঠিতে কী বলা হয়েছে?
গান্ধীনগর আইআইটি (IIT), মুম্বই আইআইএম (IIM)-সহ দেশের একাধিক প্রথম সারির শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ডিরেক্টর এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা এই চিঠিতে সই করেছেন। তাঁদের স্পষ্ট প্রশ্ন, কেন সংসদের মতো পবিত্র জায়গায় এমন বিকৃত উপস্থাপনা করা হবে?
চিঠিতে প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর উদ্দেশে লেখা হয়েছে, “আইআইটি মাদ্রাসের ডিরেক্টরকে গৌমূত্র এক্সপার্ট বলায় আমরা অত্যন্ত হতাশ। এই ধরনের মন্তব্য শুধুমাত্র একজন ব্যক্তির অপমান নয়, এটি বৃহত্তর উদ্বেগের বিষয়।” শিক্ষাবিদদের মতে, মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু জাতীয় স্তরের কোনো গবেষক বা শিক্ষাবিদকে উপহাস করা কখনই উচিত নয় এবং এগুলি রাজনৈতিক বিদ্রূপের বিষয় হওয়া উচিত নয়। এই ধরনের মন্তব্য দেশের তরুণ গবেষক ও শিক্ষামহলে ভুল বার্তা পাঠায়।
কে এই ভি কামাকোটি?
খোলা চিঠিতে অধ্যাপক ভি কামাকোটির অসাধারণ শিক্ষাগত যোগ্যতা ও科研 অবদানের কথা তুলে ধরেছেন শিক্ষাবিদরা:
তিনি দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় গবেষক এবং বর্তমানে আইআইটি মাদ্রাজের ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
তিনি আইআইটি মাদ্রাজ থেকেই কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে এমএস এবং পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
তাঁর ঝুলিতে ১৫০টিরও বেশি গবেষণাপত্র রয়েছে এবং তিনি ৫০টিরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
ভারতের প্রথম নিজস্ব মাইক্রোপ্রসেসর তৈরির ক্ষেত্রে তাঁর অবদান ছিল পথপ্রদর্শকের মতো।
তাঁর কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ডিআরডিও অ্যাকাডেমিক এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড এবং ইন্ডিয়ান ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড সেমিকন্ডাক্টর অ্যাসোসিয়েশন টেকনো ভিশনারি অ্যাওয়ার্ডের মতো একাধিক prestigious পুরস্কার অর্জন করেছেন।
চিঠির শেষাংশে শিক্ষাবিদরা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে, অতীতে যে সমস্ত ধারণাকে অসম্ভব বলে মনে করা হতো, বহু ক্ষেত্রে বিজ্ঞান তার সত্যতা প্রমাণ করেছে। তাই বৈজ্ঞানিক বা তাত্ত্বিক বিষয় নিয়ে কটাক্ষ করার পরিবর্তে আরও দায়িত্বশীল আচরণের প্রত্যাশা করছেন দেশের শিক্ষামহল।