“অবৈধ সম্পর্কের জের!” মহিলা চিকিৎসক ও তাঁর পরিবারের হাতে খুন জলশক্তি বিভাগের জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার, পর্দাফাঁস অন্ধ হত্যাকাণ্ডের

হিমাচল প্রদেশের কুল্লু সাব-ডিভিশনে জলশক্তি বিভাগের এক জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার (JE)-এর রহস্যমৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এল। একে নিছক দুর্ঘটনা বা স্বাভাবিক মৃত্যু ভাবলেও, পুলিশি তদন্তে এটি যে একটি ঠাণ্ডা মাথার ‘ব্লাইন্ড মার্ডার’ বা অন্ধ হত্যাকাণ্ড, তা পরিষ্কার হয়ে গেছে। এই ঘটনায় এক মহিলা চিকিৎসক, তাঁর চিকিৎসক স্বামী, শ্বশুর এবং দেওর—সহ মোট চারজনকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ জুলাই কুল্লুর গান্ধিনগরে জলশক্তি বিভাগের ৫২ বছর বয়সি জেই লাভ সিং গুলেরিয়াকে পানীয় জলের পাইপলাইন পরীক্ষা করার অজুহাতে নিজের বাড়িতে ডেকে পাঠান কুল্লু আঞ্চলিক হাসপাতালের এক মহিলা চিকিৎসক। অভিযোগ, ওই মহিলা চিকিৎসকের সঙ্গে জেই-র অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে— এই সন্দেহের বশেই ওইদিন তাঁর স্বামী, শ্বশুর ও দেওর মিলে লাভ সিংয়ের ওপর চড়াও হন এবং বেধড়ক মারধর করেন। পরে গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে অফিসের কাছে রাস্তায় ফেলে রেখে চম্পট দেন অভিযুক্তরা।

পরিবারের পক্ষ থেকে খোঁজাখুঁজির পর প্রথমে রাস্তার পাশ থেকে তাঁর স্কুটি এবং পরে অত্যন্ত সংকটজনক অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করা হয়। কুল্লু হাসপাতাল পেরিয়ে তাঁকে বিলাসপুরের এইমসে (AIIMS Bilaspur) স্থানান্তরিত করা হলে, গত শনিবার সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই তাঁর মৃত্যু হয়।

তদন্তে চাঞ্চল্যকর মোড়: ঘটনার পরেই কুল্লুর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) সঞ্জীব চৌহানের নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করা হয়। কল ডিটেলস রেকর্ড (CDR), চার দিনের টানা তদন্ত এবং ওই বাড়ির গৃহপরিচারিকার জবানবন্দির ভিত্তিতে পুরো রহস্যের জট খোলে। জানা গেছে, অভিযুক্ত শ্বশুর নিজেই ঘরের দরজা আটকে জেই-কে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিলেন।

বুধবার সন্ধ্যায় এসআইটি দল চার অভিযুক্তকেই গ্রেফতার করে। আজ, বৃহস্পতিবার কুল্লু পুলিশের পক্ষ থেকে এক সাংবাদিক বৈঠক করে এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের সমস্ত বিবরণ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করার পাশাপাশি ধৃতদের আদালতে পেশ করা হবে। অবৈধ সন্দেহের জেরে এক সরকারি আধিকারিকের এমন নৃশংস পরিণতিতে গোটা হিমাচল প্রদেশ জুড়েই চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *