সংসদে প্রশ্নফাঁস ও বিলকিস বানো মামলা নিয়ে তুমুল হাঙ্গামা! প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ও প্রহ্লাদ জোশীর বাকযুদ্ধে উত্তাল লোকসভা

লোকসভায় প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং শিক্ষার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনার সময় তুঙ্গে উঠল রাজনৈতিক উত্তেজনা। কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশীর মধ্যে তীব্র বাগবিতণ্ডায় সরগরম হয়ে ওঠে সংসদ ভবন। বিতর্ক চলাকালীন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী সরাসরি বিলকিস বানো মামলার প্রসঙ্গ টেনে কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে জোরালো আক্রমণ শাণান, যা মুহূর্তের মধ্যে পুরো লোকসভায় তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি করে।
তীব্র বাকযুদ্ধ ও প্রিয়াঙ্কার আক্রমণ:
সংসদে বিতর্কের সময় প্রিয়াঙ্কা গান্ধী প্রশ্নফাঁসের মতো সংবেদনশীল ইস্যুটিকে সামনে এনে কেন্দ্রের নীতি ও সুরক্ষার অভাব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এর পাশাপাশি তিনি আলোচিত বিলকিস বানো মামলার প্রসঙ্গ উত্থাপন করলে শাসক দলের বেঞ্চ থেকে তীব্র আপত্তি জানানো হয়। এই সময় শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশী এবং অন্য প্রবীণ মন্ত্রী ও সাংসদরা প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ করেন।
শাসক শিবিরের কড়া প্রতিক্রিয়া:
কংগ্রেস নেত্রীর এই আক্রমণাত্মক মেজাজের পর চুপ থাকেননি গেরুয়া শিবিরের নেতারাও। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু, বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে এবং শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশী একের পর এক তীব্র আক্রমণ শাণিয়ে বলেন যে, রাজনৈতিক ফায়দা তোলার জন্যই বিরোধীরা অপ্রাসঙ্গিক এবং স্পর্শকাতর বিষয় টেনে এনে সংসদীয় কার্যধারায় বিঘ্ন ঘটাচ্ছেন।
স্পিকারের হস্তক্ষেপ:
উভয় পক্ষের লাগাতার স্লোগান ও হাঙ্গামার জেরে সংসদে চরম হট্টগোল শুরু হলে লোকসভার স্পিকারকে বারবার হস্তক্ষেপ করতে হয়। দুই পক্ষকেই শান্ত করার চেষ্টা করেন স্পিকার এবং সংসদীয় শিষ্টাচার বজায় রাখার কড়া নির্দেশ দেন।
সবমিলিয়ে, বর্ষাকালীন অধিবেশনের এই হাই-ভোল্টেজ রাজনৈতিক সংঘর্ষ দেশের জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। প্রশ্নফাঁস এবং অন্যান্য সামাজিক-রাজনৈতিক ইস্যুকে কেন্দ্র করে আগামী দিনেও যে সংসদ চত্বরে শাসক ও বিরোধী শিবিরের লড়াই আরও তীব্র হবে, আজকের এই ঘটনা তারই স্পষ্ট ইঙ্গিত দিল।