পাওয়ার ব্যাংক ব্যাগে রেখে কি মস্ত বড় ভুল করছেন? মাঝ আকাশে প্লেনে আগুন লাগার এই ভিডিও দেখলে শিউরে উঠবেন!

আপনিও কি বিমান ভ্রমণের সময় খুব একটা না ভেবে পাওয়ার ব্যাংকটি ব্যাগে পুরে নেন? যদি উত্তর হ্যাঁ হয়, তবে সাম্প্রতিক এই ঘটনা আপনার চোখ কপালে তুলে দেবে। সম্প্রতি একটি চীনা ফ্লাইটে ঘটে যাওয়া এক ভয়াবহ দুর্ঘটনা সোশ্যাল মিডিয়ায় রীতিমতো দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে। মাথার উপরের লাগেজ রাখার জায়গায় (Overhead Bin) রাখা একটি পাওয়ার ব্যাংকে হঠাৎ আগুন ধরে যাওয়ার ঘটনায় যাত্রীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।

অবতরণের ঠিক পরপরই বিপত্তি
২৪ জুলাই ঘটে যাওয়া এই ঘটনাটি ঘটেছে চায়না ইস্টার্ন এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে, যা লানঝৌ থেকে গুইয়াংগামী ছিল এবং গুইয়াং লংডংবাও বিমানবন্দরে সফলভাবে অবতরণ করার ঠিক পরেই এই কাণ্ড ঘটে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, বিমান থামার পর এক যাত্রী নিজের লাগেজ নামানোর জন্য ওভারহেড বিনের ঢাকনা খুলতেই ভেতর থেকে প্রবল বেগে আগুন ও ঘন কালো ধোঁয়া বেরিয়ে আসছে। তবে ক্রু মেম্বার ও যাত্রীদের চরম তৎপরতা ও উপস্থিত বুদ্ধির জোরে আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। অন্যথায় এটি একটি বড় মাপের বিমান দুর্ঘটনার কারণ হতে পারত।

কেন বিস্ফোরিত হয় পাওয়ার ব্যাংক?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের দুর্ঘটনার মূল কারণ হলো ‘থার্মাল রানঅ্যাওয়ে’ (Thermal Runaway)। এটি লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির ভেতরে ঘটা এক ধরনের রাসায়নিক প্রক্রিয়া, যার ফলে ব্যাটারি মুহূর্তের মধ্যে অতিরিক্ত গরম হয়ে বিস্ফোরিত হতে পারে বা আগুন ধরে যায়। ব্যাটারিতে শর্ট সার্কিট হলে, সেটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে কিংবা অতিরিক্ত হিট হলে এই ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।

ফ্লাইটে পাওয়ার ব্যাংক ও লাগেজ সংক্রান্ত নিয়মাবলী
এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে বিমান সংস্থাগুলির কড়া নির্দেশিকা রয়েছে:

কেবিন ব্যাগে রাখুন: বেশিরভাগ এয়ারলাইন্সের নিয়ম অনুযায়ী, পাওয়ার ব্যাংক এবং অতিরিক্ত লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি সবসময় কেবিন ব্যাগে বা হাতের ব্যাগে রাখা বাধ্যতামূলক। চেক-ইন ব্যাগেজে এগুলি রাখা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাটারি নিষিদ্ধ: কোনো ব্যাটারি ফোলা থাকলে, পুরোনো বা ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা বিমানে বহন করা যাবে না।

বিমান ভ্রমণের সময় আর কী কী নিষিদ্ধ?
নিরাপত্তার খাতিরে ফ্লাইটে নির্দিষ্ট কিছু জিনিস বহন করার ওপর কড়া নিষেধাজ্ঞা রয়েছে:

দাহ্য ও বিস্ফোরক পদার্থ: আতশবাজি, পেট্রোল, ডিজেল, পেইন্ট থিনার বা অন্যান্য দাহ্য তরল এবং বিপজ্জনক রাসায়নিক যেমন অ্যাসিড, ব্লিচ ইত্যাদি পকেট বা ব্যাগে রাখা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

ধারালো বস্তু: ছুরি, রেজার ব্লেড, বক্স কাটার বা ভারী যন্ত্রাংশ (হাতুড়ি, স্ক্রুড্রাইভার) কেবিন ব্যাগে রাখা নিষেধ। খেলাধুলার সরঞ্জাম যেমন ক্রিকেট ব্যাট, হকি স্টিক বা গল্ফ ক্লাবও কেবিনে না রেখে চেক-ইন ব্যাগে দিতে হয়।

তরল পদার্থ: শ্যাম্পু, পারফিউম, ক্রিম বা জেল জাতীয় ১০০ মিলিলিটারের বেশি পরিমাণের কোনো তরল ক্যারি-অন ব্যাগে বহন করা যায় না। ১০০ মিলি বা তার কম পরিমাণের বোতল একটি নির্দিষ্ট স্বচ্ছ ব্যাগে রাখতে হয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *