“সংসদে এমন ভাষা প্রত্যাশিত নয়!” রাহুলের ‘ইডিয়টস-অন্ধভক্ত’ মন্তব্য নিয়ে ফুঁসে উঠলেন শমীক ভট্টাচার্য

বুধবার লোকসভায় প্রশ্নফাঁসরোধী বিল (পাবলিক এক্সামিনেশন অ্যাক্ট সংশোধনী বিল) নিয়ে আলোচনার সময় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর করা একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক। সংসদে দাঁড়িয়ে ‘ইডিয়টস’ এবং ‘অন্ধভক্ত’ শব্দের ব্যবহার করে রাহুল গান্ধী যে ভাষা প্রয়োগ করেছেন, তাকে সুস্থ গণতন্ত্রের পরিপন্থী বলে তীব্র আক্রমণ শাণিয়েছে গেরুয়া শিবির। এই পরিস্থিতিতে রাহুল গান্ধীকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে বলে দাবি তুলেছে বিজেপি। পিছিয়ে নেই বঙ্গ বিজেপিও; রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে কড়া ভাষায় তোপ দেগেছেন কংগ্রেস নেতার বিরুদ্ধে।

সংসদে কী ঘটেছিল?
বুধবার সংসদে প্রশ্নফাঁসরোধী বিল পাশ হওয়ার পর বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাহুল গান্ধী এক পড়ুয়ার সঙ্গে হওয়া কথোপকথনের প্রসঙ্গ টানেন। সেই কথা বলতে গিয়েই তিনি ‘ইডিয়টস’ (Idiots) এবং ‘অন্ধভক্ত’ শব্দদুটি ব্যবহার করেন এবং সোজাসুজি আরএসএস ও কেন্দ্রের নীতিমালার বিরুদ্ধে সুর চড়ান। রাহুলের এই মন্তব্যের পরেই ওয়েলে এসে তুমুল আপত্তি জানান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। পাশাপাশি, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং সহ শাসক দলের অন্য নেতারাও তীব্র আপত্তি জানিয়ে সংসদের কার্যবিবরণী থেকে ওই ‘অংসদীয়’ শব্দদুটি অবিলম্বে মুছে ফেলার জোরালো দাবি জানান।

শমীক ভট্টাচার্যের কড়া আক্রমণ:
সংসদে রাহুলের এই মন্তব্য সামনে আসার পরেই গর্জে ওঠে বঙ্গ বিজেপি। রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “আজকে লোকসভার বিতর্কে যে শব্দ ও ভাষা বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী ব্যবহার করলেন, তা কোনও সুস্থ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় মোটেও প্রত্যাশিত নয়। এই ধরনের কুরুচিকর ও অসংসদীয় মন্তব্য থেকে তিনি নিজেকে বিরত রাখলেই পারতেন।”

পাশাপাশি, বুধবার লোকসভায় ঐতিহাসিক প্রশ্নফাঁসরোধী বিল পাশ হওয়া প্রসঙ্গে নরেন্দ্র মোদি সরকারের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হন শমীক। তিনি বলেন, “এর মাধ্যমেই বোঝা গেল নরেন্দ্র মোদির গ্যারান্টি পূরণ করার অর্থ কী।” একইসঙ্গে সাম্প্রতিক কালে দেশজুড়ে প্রশ্নফাঁস নিয়ে হওয়া বিভিন্ন ছাত্র আন্দোলন প্রসঙ্গেও কড়া নিশানা করেন তিনি। শমীক ভট্টাচার্যের দাবি, “যাঁরা ছাত্রদের বিভ্রান্ত করতে চাইছিলেন এবং আন্দোলনের মধ্যে ঢুকে নিজেদের রাজনৈতিক অপ্রাসঙ্গিকতা কাটিয়ে প্রাসঙ্গিক হওয়ার চেষ্টা করছিলেন, এই বিলের মাধ্যমে তাঁদের কাছেও একটা কড়া বার্তা চলে গেল। দেশের যুবসমাজ ও ছাত্ররা এখন খুব ভালোভাবেই বুঝতে পারছে কারা তাদের বিপথে চালিত করতে চেয়েছিল এবং ঘোলা জলে মাছ ধরতে নেমেছিল।”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *