“দাদু ভীষণ কালো ছিলেন, ক্রিম মেখে সাদা হয়েছেন!” উত্তম কুমারকে নিয়ে নাতনির বিস্ফোরক দাবিতে উত্তাল নেটপাড়া

বাঙালির নস্টালজিয়া, রোমান্টিসিজমের বরপুত্র এবং বাংলা সিনেমার ‘মহানায়ক’ উত্তম কুমার—যাঁর এক চিলতে হাসি ও অনবদ্য ব্যক্তিত্বে আজও বুঁদ হয়ে থাকে একাধিক প্রজন্ম। মৃত্যুর চার দশক পরেও তাঁর রূপ, স্টাইল ও ম্যানারিজম নিয়ে চর্চার শেষ নেই। কিন্তু এবার সেই স্বপ্নের নায়ককে নিয়েই এক অত্যন্ত বিস্ফোরক ও বিতর্কিত দাবি করে বসলেন তাঁর নিজের নাতনি নবমিতা চট্টোপাধ্যায়! সম্প্রতি একটি সোশ্যাল মিডিয়া পডকাস্টে এসে তিনি দাবি করেছেন, মহানায়ক নাকি জন্মগতভাবে ফর্সা ছিলেন না; বরং বিশেষ ক্রিম ও ক্যাপসুল মেখে নিজেকে ফর্সা বানিয়েছিলেন তিনি! আর এই মন্তব্য সামনে আসতেই তীব্র আক্রমণ ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে নেটপাড়ায়।
পডকাস্টের সেই চাঞ্চল্যকর বিতর্ক:
সম্প্রতি একটি পডকাস্টে অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে মহানায়ককে নিয়ে বিভিন্ন অজানা কথা বলতে গিয়ে নাতনি নবমিতা এমন কিছু মন্তব্য করেন, যা মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়। পডকাস্টের একটি ক্লিপিংয়ে তাঁকে বলতে শোনা যায়, দাদু উত্তম কুমার জন্মগতভাবে একেবারেই ফর্সা ছিলেন না। নবমিতার দাবি—
“দাদু ভীষণ কালো ছিলেন, এটা বললে কেউ বিশ্বাস করবে না। কিন্তু দাদু অত্যন্ত কালো ছিলেন। নিভিয়া (ক্রিম) দিয়ে, শনা নিয়ে… ত্বকের দিক থেকে উনি খুব কালো ছিলেন। উড়ে পুরুত বলতে যা বোঝায়, আমার কাছে পুরোনো ছবি আছে সেটা যদি তুমি দেখো…”
এখানেই শেষ নয়, সঞ্চালক যখন স্কিন টোন সম্পর্কে নিশ্চিত হতে চান, তখন নবমিতা জানান যে তাঁর গায়ের রং ‘একদম’ কালো ছিল। এরপর তিনি যোগ করেন যে, পরবর্তীকালে বিভিন্ন চিকিৎসকের পরামর্শে ক্রিম মেখে এবং ক্যাপসুল খেয়ে উনি নিজেকে অনেক বেশি ‘নারচার’ বা পরিচর্যা করে ফর্সা করেছিলেন।
নেটপাড়ায় ক্ষোভের আগুন ও তীব্র ট্রোলিং:
উত্তম কুমারের রূপ, ব্যক্তিত্ব ও ম্যাজিক নিয়ে পরিবারের এক সদস্যের এমন মন্তব্য কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না মহানায়কের অগণিত ভক্ত ও সিনেমাপ্রেমীরা। ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ার কমেন্ট বক্সে ধেয়ে এসেছে তীব্র কটাক্ষের বন্যা। ক্ষুব্ধ নেটিজেনদের একাংশের স্পষ্ট মন্তব্য, “ভাট বকার একটা নির্দিষ্ট লিমিট থাকা উচিত!” অনেকেরই দাবি, আজকাল পডকাস্টে সস্তা ভিউ বা পাবলিসিটি পাওয়ার লোভে অনেকেই এমন ভিত্তিহীন ও আপত্তিকর মন্তব্য করছেন।
যাঁরা উত্তম কুমারকে স্বচক্ষে দেখেছেন বা বাংলা ছবির স্বর্ণযুগকে কাছ থেকে চিনেছেন, তাঁদের জোালদার যুক্তি— মহানায়কের জাদুকরী আকর্ষণ বা ব্যক্তিত্ব কোনও প্রসাধন সামগ্রীর ওপর নির্ভরশীল ছিল না। নাতনির এই দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। নিজের দাদুকে নিয়ে এমন আজব মন্তব্যের জেরে নেটদুনিয়ায় সাইবার ট্রোলের মুখে পড়া নবমিতা চট্টোপাধ্যায় এই বিষয়ে পরবর্তীতে কোনও সাফাই দেন কি না, এখন সেটাই দেখার!