মোদীর আহ্বানেই কি কমল সোনা কেনা? রেকর্ড দামের বাজারেও ভারতে চাহিদা নিয়ে বড় তথ্য সামনে!

ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের (WGC) সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিল-জুন ত্রৈমাসিকে ভারতে সোনার সামগ্রিক চাহিদা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬ শতাংশ কমে ১৩১.৪ টনে দাঁড়িয়েছে। গত বছর এই একই সময়ে মোট সোনার চাহিদা ছিল ১৩৯.৭ টন। আবহাওয়াজনিত বিক্রিতে মন্দা, বর্ধিত শুল্ক এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সুরক্ষিত রাখতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সোনা কেনা কমানোর আর্জি—এই সমস্ত কারণই চাহিদায় হ্রাসের অন্যতম প্রধান কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে চাহিদার পরিমাণ কিছুটা কমলেও, মুদ্রার মূল্যের দিক থেকে এটি একটি বিরাট রেকর্ড বলেই জানিয়েছে ডব্লিউজিসি। ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের ইন্ডিয়া রিজিওনাল সিইও শচীন জৈন জানান, ২০২৫ সালের একই সময়ের ১.৩২ লক্ষ কোটি টাকার তুলনার চলতি বছরের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে সোনার মোট ভোগ বা খরচ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১.৯৮ লক্ষ কোটি টাকায়। অর্থাৎ, গত বছরের তুলনায় আর্থিক মূল্য প্রায় ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা স্পষ্ট করে দেয় যে আকাশছোঁয়া দাম সত্ত্বেও ভারতীয় ভোক্তারা সোনাকেই তাদের প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে বেছে নিচ্ছেন।
সামনের দিনগুলিতে সোনার বাজারের গতিপ্রকৃতি নিয়ে ডব্লিউজিসি অনুমান করছে যে, চলতি বছরে সামগ্রিক চাহিদা ৬৫০ থেকে ৭৫০ টনের সীমার মধ্যেই থাকবে। তবে ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি, মুদ্রাস্ফীতি এবং সুদের হারের ওপর নির্ভর করে এই অঙ্ক মাঝামাঝি জায়গায় থাকতে পারে। আলোচ্য ত্রৈমাসিকে ভারতের গহনার চাহিদা ১৫ শতাংশ কমে ৭৫.১ টনে নেমে এসেছে, যেখানে গত বছর তা ছিল ৮৮.৮ টন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গত মে মাসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশের নাগরিকদের অপ্রয়োজনীয় সোনা কেনা থেকে বিরত থাকার এবং আমদানির চাপ কমাতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংরক্ষণের আহ্বান জানিয়েছিলেন। এর পাশাপাশি শুল্ক বৃদ্ধির ফলে অবৈধ বা ধূসর বাজারের প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ডব্লিউজিসি। সংস্থার মতে, চোরাচালান ও বাজারে অবৈধ সোনার অনুপ্রবেশ এই শিল্প খাতের জন্য অন্যতম বড় ঝুঁকি।
অন্যদিকে, গহনার চাহিদা কমলেও বার এবং কয়েনের মতো বিনিয়োগের ক্ষেত্রে চিত্রটা বেশ ইতিবাচক। এই খাতে চাহিদা বছরওয়ারি ৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৫০.৩ টনে পৌঁছেছে। পাশাপাশি, বিশ্ববাজারে অর্থ তুলে নেওয়ার প্রবণতা সত্ত্বেও ভারতীয় গোল্ড ইটিএফ-গুলিতে ৪.২ টন নিট বিনিয়োগ এসেছে। অনিশ্চিত অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে সোনা যে কেবল ঐতিহ্যগত সম্পদ নয়, বরং একটি শক্তিশালী কৌশলগত বিনিয়োগ হিসেবেও নিজের জায়গা ধরে রেখেছে, এই পরিসংখ্যান তারই প্রমাণ। আগামীতে উৎসবের মরসুম ও বিয়ের বাজার শুরু হলে সোনার চাহিদা ফের ঘুরে দাঁড়াবে বলেই আশা করছে ওয়াকিবহাল মহল।