যুদ্ধ এড়াতে ইরানকে ২০০ বিলিয়ন ডলার দিতে রাজি ৪ উপসাগরীয় দেশ! নেপথ্যে কোন বড় চুক্তির ছক?

যুদ্ধের কালো মেঘ এড়াতে এবং মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি বজায় রাখতে বড় কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিল চার উপসাগরীয় দেশ। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘ফিনান্সিয়াল টাইমস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে এই দেশগুলি ইরানের সঙ্গে কোনো ধরনের যুদ্ধের পক্ষে নয়। বরং উপসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধের বিস্তার রোধ করতে এবং হরমুজ প্রণালীর স্বাভাবিক কার্যক্রম ও তেল বাণিজ্য সচল রাখতে ইরানকে অবিলম্বে ২০০ বিলিয়ন ডলার দিতে প্রস্তুত রয়েছে তারা।
প্রতিবেদনে প্রকাশ, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান এবং কাতার—এই চার দেশই শান্তির পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছে, যেখানে কাতার আনুষ্ঠানিকভাবে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। সম্প্রতি ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জে.ডি. ভ্যান্সের সঙ্গে সাক্ষাতে সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, “আমরা ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বাড়াতে চাই না।”
এই ব্যাপক চুক্তির অংশ হিসেবে উপসাগরীয় দেশগুলি ইরানের ওপর থেকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পক্ষেও জোরালো সওয়াল করেছে। এমনকি ইরান যুদ্ধ বন্ধ করলে সংযুক্ত আরব আমিরাত তাদের দুবাইতে ২০ হাজার নাগরিককে চাকরি দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। পাশাপাশি, ওমানও প্রস্তাব দিয়েছে যে, ইরান তাদের সীমান্ত দিয়ে চলাচলকারী জাহাজে হামলা বন্ধ রাখলে ওমানও উপসাগরে থাকা ইরানি ট্যাংকারগুলিকে নিশানা করবে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দেশগুলির শান্তির পক্ষে দাঁড়ানোর নেপথ্যে রয়েছে অর্থনৈতিক বাধ্যবাধকতা। ইরান ও আমেরিকার সংঘাত এই দেশগুলির অত্যন্ত লাভজনক তেল ও গ্যাস বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। অতীতে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতেও সৌদি আরব লোহিত সাগর দিয়ে তেল রপ্তানি বজায় রাখতে সক্ষম হলেও, বর্তমান পরিস্থিতিতে হুথি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগর অবরুদ্ধ করে রেখেছে এবং যৌথভাবে সৌদি তেল শোধনাগারগুলিতে হামলা চালাচ্ছে। এছাড়া হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় কাতারের গ্যাস সরবরাহ এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাণিজ্যও প্রবল সংকটের মুখে পড়েছে। এই বহুমুখী অর্থনৈতিক চাপ কাটাতেই উপসাগরীয় দেশগুলির এই কূটনৈতিক তৎপরতা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।