স্বামীর হানিমুন খুন: সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশ মানতেই আত্মসমর্পণ সোনমের! জানুন এক বছরের রোমহর্ষক কাহিনী

সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশ মেনে অবশেষে আত্মসমর্পণ করলেন চাঞ্চল্যকর হানিমুন খুন মামলার মূল অভিযুক্ত সোনম রঘুবংশী। মেঘালয়ে হানিমুনে গিয়ে ব্যবসায়ী স্বামী রাজা রঘুবংশীকে নৃশংসভাবে খুনের অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। প্রায় এক বছর ধরে চলা আইনি লড়াইয়ের পর গত ২৩ জুলাই শীর্ষ আদালত সোনমের জামিন খারিজ করে দেয় এবং তিন সপ্তাহের মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়। সেই নির্দেশ মেনেই নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই বুধবার ট্রায়াল কোর্টে আত্মসমর্পণ করেন তিনি।
পূর্ব খাসি হিলস জেলার পুলিশ সুপার বিবেক সিয়াম জানিয়েছেন, মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরের বাসিন্দা অভিযুক্ত সোনমকে ইতিমধ্যেই বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে:
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ২৩ মে মেঘালয়ের সোহরা (চেরাপুঞ্জি) এলাকায় ছুটি কাটাতে গিয়ে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যান এই দম্পতি। এরপর গত ২ জুন একটি গভীর খাদ থেকে স্বামী রাজা রঘুবংশীর পচাগলা মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, সোনম তাঁর প্রেমিক রাজ কুশওয়াহার সঙ্গে হাত মিলিয়ে এবং আর্থিক লাভের উদ্দেশ্যে হানিমুন চলাকালীন রাজাকে হত্যার জন্য ভাড়াটে খুনি নিয়োগ করেছিলেন।
আইনি লড়াই ও সুপ্রিম কোর্টের কড়া বার্তা:
এর আগে গত ২৭ এপ্রিল ট্রায়াল কোর্ট এবং পরবর্তীতে ২৯ জুন মেঘালয় হাইকোর্ট অভিযুক্ত সোনমের জামিন মঞ্জুর করেছিল। হাইকোর্ট রাজ্য সরকারের জামিন বাতিলের আবেদন খারিজ করে দিলেও, বিষয়টি গড়ায় সুপ্রিম কোর্টে।
বিচারপতি এম এম সুন্দরেশ এবং বিচারপতি পি বি ভারালের সুপ্রিম কোর্ট বেঞ্চ স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ করে যে, এই স্পর্শকাতর মামলার এই পর্যায়ে অভিযুক্ত জামিনে মুক্ত থাকলে তা বিচার প্রক্রিয়াকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করতে পারে। ফলস্বরূপ, রাজ্য সরকারের আবেদন মঞ্জুর করে শীর্ষ আদালত সোনমের জামিন খারিজ করে দেয়। তবে আদালত জানিয়েছে, আগামী ছয় মাসের মধ্যে বিচার প্রক্রিয়া সন্তোষজনকভাবে এগো না পারলে সোনম পুনরায় জামিনের আবেদন করতে পারবেন।