৫ লাখ টাকা খরচ করে লাল বেনারসীতে ঘরে আনা বউ আসলে…? শাজাপুরে বিয়ের নামে বিরাট জালিয়াতি!

বলা হয়ে থাকে যে বৈবাহিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে বিশ্বাস ও সত্যের ওপর ভিত্তি করে। কিন্তু মধ্যপ্রদেশের শাজাপুরে বিয়ের নামে এমন এক চাঞ্চল্যকর প্রতারণার ঘটনা সামনে এসেছে, যা শুনে চোখ কপালে উঠেছে নেটপাড়ার। ঘটা করে বিয়ে করে ঘরে আনা বউয়ের আসল পরিচয় জানার পর পকেটে টান পড়া বরের পরিবার এখন রীতিমতো আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। বিয়ের পঁচিশ দিন পর জানা গেল—বৌয়ের বেশে ঘরে আসা কনে আসলে একজন রূপান্তরকামী (ট্রান্সজেন্ডার)!

শাজাপুরের কোতোয়ালি এলাকায় ঘটে যাওয়া এই আজব ও চাঞ্চল্যকর ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে জোর আইনি তোড়জোড়।

পাত্রের অসহায়তার সুযোগে ৬ লাখ টাকার ফাঁদ!
ভুক্তভোগী যুবক পেশায় একজন সাধারণ সবজি বিক্রেতা। বয়স বেড়ে যাওয়া সত্ত্বেও বিয়ে না হওয়ায়, প্রতিবেশীরা রাজগড় পাচোরের একটি পরিবারের সঙ্গে তাঁর বিয়ের ব্যবস্থা করে।

তড়িঘড়ি বিয়ে: অভিযোগ, যুবকের পরিবারের আর্থিক সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও কনেপক্ষ তড়িঘড়ি বিয়ে দেওয়ার জন্য প্রচণ্ড চাপ তৈরি করে।

বিশাল খরচ: গত ২৯শে জুন পাচোরের এক মন্দিরে বিয়ে সম্পন্ন হয়। অভিযোগ উঠেছে, বিয়ের আয়োজন ও অন্যান্য সামগ্রী বাবদ বরের পরিবারকে প্রায় ৫ লক্ষ টাকা খরচ করানো হয় এবং নগদ আরও ১ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয় কনেপক্ষ।

বিয়ের রাতেই অজুহাত! তারপরের গল্প আরও অদ্ভুত
পরিবারের সদস্য জানান, ৩০শে জুন কনে তাঁর শ্বশুরবাড়িতে পা রাখেন। কিন্তু প্রথম রাতেই স্বামীর কাছে তিনি মাসিকের (Menstruation) অজুহাত দিয়ে দূরত্ব বজায় রাখেন। এরপর শরীর খারাপ ও পেটে ব্যথার কথা বলে ২রা জুলাই বাপের বাড়ি ফিরে যান এবং টানা ২১ দিন সেখানেই কাটান।

২৩শে জুলাই তিনি আবার শ্বশুরবাড়িতে ফিরে এলেও তাঁর আচার-আচরণ ও চালচলনে বরের পরিবারের মনে ধীরে ধীরে সন্দেহ দানা বাঁধতে থাকে।

শেভিং ক্রিম মেখে ধরা পড়ল গোপন সত্যি!
কনের ওপর প্রথম সন্দেহ জাগে যুবকের বড় বোানের (ননদ)। একদিন বাথরুমে কনেকে মুখে শেভিং ক্রিম মেখে শেভ করতে দেখে তিনি চরম হতবাক হয়ে যান!

জিজ্ঞাসা করা হলে, ওই কনে বিন্দুমাত্র দ্বিধা না করে নির্বিকারভাবে উত্তর দেন যে তিনি শেভ করছেন!

এই ঘটনার পর সন্দেহ আরও দানা বাঁধলে পরিবারের লোকজন তাঁকে চেপে ধরেন এবং কড়া জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

জিজ্ঞাসাবাদের মুখে কনে স্বীকার করতে বাধ্য হন যে তিনি নারী নন, বরং একজন ট্রান্সজেন্ডার!

থানায় দায়ের এফআইআর, তদন্তে পুলিশ
নিজেরা প্রতারিত হয়েছেন বুঝতে পেরে কালবিলম্ব না করে ভুক্তভোগী পরিবার সরাসরি শাজাপুর কোতোয়ালি থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ জানান।

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সন্তোষ বাঘেলা জানিয়েছেন, ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে কথিত কনের বাবা লক্ষ্মীনারায়ণ, আজাদ, রাকেশ, রাজা এবং চন্দ্রোবাই-সহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রতারণার লিখিত এফআইআর (FIR) নথিভুক্ত করা হয়েছে। এটি রাজ্যজুড়ে সক্রিয় কোনো সুসংগঠিত ‘ম্যারেজ ফ্রড’ বা পাত্রী-প্রতারক চক্রের কাজ কি না, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ জোরদার তদন্ত শুরু করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *