“কেউ রক্ষা করবে না, সাবধান!” ১৬ জনের জামিনের পরই বিতর্কিত মন্তব্য হুমায়ুন কবিরের, উত্তপ্ত রাজনীতি

রাজ্যে সাম্প্রতিক নানা রাজনৈতিক ঘটাটোপ ও পরিবর্তনের আবহেই এবার বিস্ফোরক বার্তা দিলেন প্রাক্তন আইপিএস (IPS) তথা বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব হুমায়ুন কবির। সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে রাজ্যের সংখ্যালঘু মুসলিম সমাজকে সোজা ‘গান্ধীগিরি’র পাঠ দিলেন তিনি। স্পষ্ট ভাষায় জানালেন, “সময় বদলে গেছে, এখন নিজেকেই সাবধান হতে হবে।”

সোশ্যাল পোস্টে হুমায়ুন কবির লেখেন:

“১৬ জনের বেল হলো, কিন্তু মুসলমানরা সাবধান! কেউ আপনাকে বাঁচাতে আসবে না। যেসব জায়গায় গণ্ডগোলের সম্ভাবনা আছে, ভুল করেও সেদিকে যাবেন না। মহাত্মা গান্ধীর বার্তা মেনে চলুন— খারাপ কিছু দেখবেন না, খারাপ শুনবেন না এবং খারাপ বলবেন না। সময় বদলাবে আপনার হাত ধরেই!”

🚨 সাংবাদিক নিগ্রহকাণ্ড ও সেই ১৬ জনের জামিন
ঘটনার সূত্রপাত NEET প্রশ্নফাঁস নিয়ে আয়োজিত একটি ছাত্র মিছিলকে কেন্দ্র করে। বামপন্থী ছাত্র সংগঠন এবং সিজেপি-র শিক্ষার্থীদের যৌথ ডাকে কলকাতায় অনুষ্ঠিত এই বিক্ষোভ মিছিলের খবর সংগ্রহের সময় কতিপয় দুষ্কৃতীর হাতে শারীরিক নিগ্রহের শিকার হন কর্তব্যরত সাংবাদিকরা।

ঘটনার তদন্তে নেমে কলকাতা পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ মোট ১৬ জন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। লালবাজার সূত্রে জানা যায়, ধৃতদের পরিচয় যাচাই করে দেখা গেছে যে তাঁদের মধ্যে কেউই আসলে কোনো কলেজ বা ইউনিভার্সিটির ছাত্র নন। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে— আন্দোলনের সঙ্গে যোগ না থাকা সত্ত্বেও হিংসা ছড়াতে মিছিলের ভিড়ে কারা তাদের ঢোকাল?

সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের গাইডলাইন মেনে আদালত থেকে ওই ১৬ জনই জামিন পান। আর তাঁদের জামিন পাওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই হুমায়ুন কবিরের এই বিতর্কিত ও তাৎপর্যপূর্ণ পোস্ট রাজ্য রাজনীতিতে চরম শোরগোল ফেলে দেয়।

বিতর্ক ও নানা প্রশ্নের সুর
হুমায়ুন কবিরের এই বক্তব্য ভাইরাল হতেই সামাজিক ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। সাধারণ মানুষের একটা বড় অংশ এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা কিছু গুরুতর প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন:

বিপ্লবী বানানোর চেষ্টা? জামিন মিললেও তদন্তে স্পষ্ট হয়েছে যে ধৃতরা কেউ ছাত্র ছিলেন না এবং হিংসা ছড়ানোর উদ্দেশ্যেই তাঁরা মিছিলে যোগ দিয়েছিলেন। তবে কি ‘পরিবর্তনের দোহাই’ দিয়ে ওই ১৬ জনকে ‘বিপ্লবী’ বা বলির পাঁঠা হিসেবে তুলে ধরতে চাইছেন প্রাক্তন এই প্রশাসনিক কর্মকর্তা?

রাজনৈতিক ঢাল? আফরোজ, খুরশিদ কিংবা আজাদদের মতো ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার কি কেবলই রাজনৈতিক বা সাম্প্রদায়িক প্রতিহিংসা ছিল— এই ধারণাই কি তিনি প্রতিষ্ঠা করতে চান?

মৌলবাদ ছেড়ে সাধারণ শিক্ষার পরামর্শ
তবে শুধু সতর্কবার্তাই নয়, নিজের বার্তার শেষাংশে সংখ্যালঘুদের উদ্দেশ্যে এক বিশেষ বার্তা দিয়েছেন হুমায়ুন কবির। তিনি স্পষ্ট জানান, বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে ক্রমাগত ‘ধর্ম ধর্ম’ করা বা মৌলবাদের ফাঁদে পা দেওয়া বিপজ্জনক। ধর্মীয় গোঁড়ামি দূরে সরিয়ে রেখে সমাজকে সাধারণ ও আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার পরামর্শ দেন প্রাক্তন এই আইপিএস।

তবে তাঁর এই শুভবুদ্ধির বার্তার পাশাপাশি ধৃতদের টেনে এনে ‘পরিবর্তনের শিকার’ হিসেবে দেখানোর চেষ্টাকে একেবারেই সমর্থন করছেন না রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ। তাঁদের মতে, সাংবাদিক নিগ্রহের মতো অপরাধমূলক ঘটনাকে কোনোভাবেই রাজনীতির রঙ দিয়ে আড়াল করা যায় না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *