দেব আনন্দের পরিবারে ছায়া! লন্ডনে আকস্মিক মৃত্যু একমাত্র পুত্র সুনীল আনন্দের

বলিউড ও বিনোদন জগতের জন্য আরও এক দুঃখজনক খবর। কিংবদন্তি অভিনেতা দেব আনন্দ (Dev Anand) ও কালজয়ী অভিনেত্রী কল্পনা কার্তিকের একমাত্র পুত্র সুনীল আনন্দ (Suneil Anand) প্রয়াত হয়েছেন। মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই যুক্তরাজ্যের লন্ডনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুর সময় তাঁর বয়স হয়েছিল ৭০ বছর। পরিবারের তরফ থেকে সুনীল আনন্দের মৃত্যুর খবর আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে।
চলচ্চিত্র জগতে প্রবেশ ও অভিনয় সফর
যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করার পর বাবা দেব আনন্দের হাত ধরেই চলচ্চিত্র জগতে পা রেখেছিলেন সুনীল আনন্দ। শুরুতে বাবার পরিচালিত একাধিক ছবিতে সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ শিখেছিলেন তিনি।
পরবর্তীতে ১৯৮৪ সালে দেব আনন্দ পরিচালিত ‘আনন্দ অউর আনন্দ’ (Anand Aur Anand) ছবির মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ অভিনেতা হিসেবে তিনি আত্মপ্রকাশ করেন। এই ছবিতে দেব আনন্দ নিজে এবং রাজ বব্বরের মতো তারকা অভিনয় করলেও ছবিটি বক্স অফিসে আশানুরূপ সাফল্য পায়নি। এরপর ১৯৮৬ সালে ‘কার থিফ’ (Car Thief) এবং ১৯৮৯ সালে ‘ম্যায় তেরে লিয়ে’ (Main Tere Liye)-র মতো ছবিতে তিনি অভিনয় করেছিলেন। তবে একাধিক তারকা ও নামী পরিচালকের সঙ্গে কাজ করা সত্ত্বেও রূপোলি পর্দায় দীর্ঘস্থায়ী সাফল্য অধরাই থেকে যায় তাঁর।
পরিচালনায় আগমন ও চলচ্চিত্র জগতকে বিদায়
অভিনয়ে সাফল্য না পেয়ে সুনীল নজর দেন ছবি পরিচালনা ও প্রযোজনায়। ২০০১ সালে ‘মাস্টার’ (Master) ছবিটির মাধ্যমে তিনি পরিচালক ও প্রযোজক হিসেবে কাজ শুরু করেন। তবে এটিও বাণিজ্যিক সাফল্য না পাওয়ায় ধীরে ধীরে লাইমলাইট এবং মুম্বইয়ের রূপোলি জগত থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেন সুনীল আনন্দ।
শোকের ছায়া পরিবারে
সুনীল আনন্দের অকালপ্রয়ানের খবর নিশ্চিত করেছেন দেব আনন্দের নাতনি তথা সুনীলের ভাইঝি জিনা নারাং। শোকপ্রকাশ করে পরিবারের তরফে এক বিবৃতিতে জানানো হয় যে, তাঁরা অত্যন্ত কঠিন এবং বেদনাদায়ক মুহূর্তের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। এই শোকের মুহূর্তে তাঁদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তাকে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য সংবাদমাধ্যম ও অনুগামীদের কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১১ সালে ৮৮ বছর বয়সে দেব আনন্দ পরলোক গমন করেছিলেন। দেব আনন্দের প্রয়াণের দেড় দশকের মাথায় একমাত্র ছেলের এমন আকস্মিক প্রয়াণে বিমর্ষ বলিউডের পুরোনো প্রজন্ম ও অনুরাগীরা।