NEET আন্দোলনকারীদের বড় স্বস্তি, FIR-এ আপাতত কড়া পদক্ষেপ নয়

দেশজুড়ে ছাত্র সংগঠন ‘ককোরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র নেতৃত্বাধীন আন্দোলন ও পুলিশের দমনপীড়ন সংক্রান্ত একাধিক মামলায় বড়সড় স্বস্তিদায়ক নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার শীর্ষ আদালত কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারগুলিকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আন্দোলনের সময় গ্রেফতার বা আটক হওয়া ১৮ বছরের কম বয়সী সমস্ত নাবালক ছাত্রছাত্রী এবং যাদের আগে কোনও অপরাধমূলক রেকর্ড (Criminal Antecedents) নেই, তাদের অবিলম্বে বেকসুর খালাস ও মুক্তি দিতে হবে।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি. মোহনার বেঞ্চ নির্দেশ দেন, দিল্লির যন্তর মন্তর-সহ পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, মধ্যপ্রদেশ ও মহারাষ্ট্রের মতো রাজ্যগুলিতে দায়ের হওয়া এফআইআর-এর (FIR) তদন্ত চলেও আপাতত আন্দোলনকারী ছাত্রদের বিরুদ্ধে কোনও দণ্ডমূলক বা কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না।
কেন্দ্র ও পশ্চিমবঙ্গসহ ৭ রাজ্যকে নোটিস
সুপ্রিম কোর্টের তিন বিচারপতির বেঞ্চ কেন্দ্র সরকারের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, উত্তরপ্রদেশ, অসম এবং কেরল— এই রাজ্যগুলির মুখ্যসচিবদের নোটিস পাঠিয়েছে। কোন রাজ্যে পুলিশের ভূমিকা কী ছিল, ঠিক কীভাবে অশান্তি ছড়িয়েছে এবং কাদের কী দায়বদ্ধতা— তার বিশদ রিপোর্ট তলব করেছে শীর্ষ আদালত।
প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণ: > “আন্দোলনকারীদের আবেদনে গুরুতর কিছু অভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে। পেলেট গানের আঘাতে ১৯ বছরের এক তরুণের দৃষ্টিশক্তি হারানো, ইলেকট্রিক ব্যাটন ও কাটার যুক্ত লাঠির ব্যবহার, আইসিইউতে চিকিৎসাধীন গুরুতর আহত ছাত্রী, আইনজীবীদের উপর হামলা এবং সাদা পোশাকের পুলিশের হিংসার মতো ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।”
পুলিশি চরমপন্থা ও নিরপেক্ষ তদন্তের ইঙ্গিত
শুনানিকালে আবেদনকারীদের পক্ষের আইনজীবীরা আদালতে দাবি করেন, বিহারে ১৩ বছরের শিশুসহ বহু নাবালককে এখনও আটকে রাখা হয়েছে। এমনকি এক এএসআই (ASI) নিজেই গাড়ির কাচ ভাঙছেন এমন ভিডিও তথ্যও তুলে ধরা হয়।
এর জবাবে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী প্রশ্ন তোলেন, পুলিশ কেন আত্মরক্ষামূলক সরঞ্জামের বদলে আক্রমণাত্মক অস্ত্র ব্যবহার করল? আদালতের মতে, গণতান্ত্রিক দেশে আন্দোলন করা নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার। অনেক সময় আন্দোলনে অনাহূত সমাজবিরোধীরা ঢুকে অশান্তি তৈরি করলেও, শান্তিকামী ছাত্রদের ওপর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করা বা তাদের ব্যক্তিগত ডিজিটাল তথ্য জনসমক্ষে আনা বরদাস্ত করা হবে না।
সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ, ড্রোন রেকর্ডিং এবং ডায়েরি এন্ট্রি সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়ে আদালত জানিয়েছে, পুরো ঘটনার সত্যতা এবং দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে প্রাক্তন বিচারপতির অধীনে উচ্চপর্যায়ের কমিটি বা বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করা হবে।