কৃষ্ণসাগরে মৃত্যুর মুখে ১৩ ভারতীয় নাবিক! ইউক্রেন থেকে এলো মারাত্মক ভিডিও বার্তা, উদ্ধারের কাতর আকুতি!

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের আঁচ এবার জলপথে চরম আকার ধারণ করেছে। কৃষ্ণসাগরে পণ্যবাহী জাহাজের উপর পরপর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র (ড্রোন ও মিসাইল) হামলার জেরে ইউক্রেনের ‘চর্নোমর্স্ক’ (Chornomorsk) বন্দরে আটকে পড়েছেন অন্তত ১৩ জন ভারতীয় নাবিক। যেকোনো মুহূর্তে হামলা হতে পারে— এই আশঙ্কায় জাহাজের ভেতরে চরম আতঙ্কের মধ্যে প্রহর গুনছেন তাঁরা। তাঁদের জীবন মারাত্মক ঝুঁকির মুখে।
‘এমভি আমির’ জাহাজে রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতি
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বর্তমানে স্থলভাগ ছাড়িয়ে জলভাগেও সমানভাবে তাণ্ডব চালাচ্ছে। কৃষ্ণসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর ক্রমাগত হামলায় পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ। এই পরিস্থিতিতে ইউক্রেনের চর্নোমর্স্ক বন্দরে নোঙর করে রাখা ‘এমভি আমির’ (MV AMIR) নামক কার্গো ভেসেলে আটকে পড়েছেন মোট ১৫ জন ক্রু সদস্য, যার মধ্যে ১৩ জনই ভারতীয় নাগরিক।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে জাহাজের চারপাশের ভয়াবহ পরিস্থিতি ফুটে উঠেছে। দেখা যাচ্ছে, জাহাজের ঠিক আশেপাশেই প্রতিনিয়ত আছড়ে পড়ছে ড্রোন ও মিসাইল।
উদ্ধারের আকুল আর্জি
নাবিকদের সংগঠন ফার্স্ট সেফার্স ইউনিয়ন অফ ইন্ডিয়া (FSUI) সোশ্যাল মিডিয়া এক্স-এ (সাবেক টুইটার) ভিডিও পোস্ট করে ভারতীয় নাবিকদের ভয়াবহ পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেছে। ভারত সরকার, সংশ্লিষ্ট শিপিং কোম্পানি এবং পণ্য মালিকদের কাছে ওই ১৩ জন ভারতীয় নাবিককে দ্রুত ও সুরক্ষামূলকভাবে উদ্ধারের আকুল আর্জি জানানো হয়েছে।
FSUI-এর বার্তা: “এমভি আমির জাহাজে থাকা ১৫ জন ক্রু, যার মধ্যে ১৩ জন ভারতীয় নাবিক, অত্যন্ত সংকটজনক ও জীবন সংশয়কারী অবস্থায় আটকে রয়েছেন। তাঁদের ঠিক কাছাকাছি এলাকাতেই একের পর এক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হচ্ছে।”
কূটনৈতিক তৎপরতা ও উদ্বেগ
উল্লেখ্য, সম্প্রতি ইউক্রেনের দক্ষিণ উপকূলে লাগাতার হামলা বৃদ্ধি পেয়েছে। গত সপ্তাহেই কৃষ্ণসাগরে এই ধরনের এক হামলায় এক ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হয়েছিল। সেই ঘটনার পরেই ভারত সরকার নয়াদিল্লিতে ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূত ওলেক্সান্দর মিকোলায়োভিচ পোলিশচুককে তলব করে কড়া বার্তা দেয়।
তবে ‘এমভি আমির’ জাহাজে আটকে থাকা ভারতীয়দের বিষয়ে এখনও পর্যন্ত বিদেশ মন্ত্রক বা সংশ্লিষ্ট শিপিং কোম্পানির তরফ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। আপাতত গোটা দেশ ওই আটকে পড়া নাবিকদের সুরক্ষিত প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে।