“আরএসএস পুরো শিক্ষাব্যবস্থাকে কব্জা করেছে!” নিট দুর্নীতি নিয়ে লোকসভায় তোপ দেগে মোদী-অমিত শাহকে নিশানা রাহুলের

লোকসভায় নিট-ইউজি (NEET-UG) ২০২৬ পরীক্ষা সংক্রান্ত অনিয়ম ও প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে আয়োজিত সংশোধনী বিল আলোচনার সময় সুর চড়ালেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। দেশজুড়ে প্রতিবাদে নামা পরীক্ষার্থী ও যুবসমাজকে সমর্থন জানিয়ে তিনি স্পষ্ট বলেন, ভারতের তরুণ প্রজন্ম কেবল তাঁদের ভবিষ্যৎ ও শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে নিজেদের দুশ্চিন্তাই ব্যক্ত করেছে।
পাবলিক এক্সামিনেশনস (প্রিভেনশন অব আনফেয়ার মিনস) অ্যামেন্ডমেন্ট বিল, ২০২৬ (Public Examinations Bill, 2026) সংক্রান্ত বিতর্কে অংশ নিয়ে রাহুল গান্ধী একযোগে আরএসএস, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং কেন্দ্রের শিক্ষানীতিকে তীব্র নিশানা করেন।
রাহুল গান্ধীর ভাষণের সেরা ৫টি বিস্ফোরক বক্তব্য:
১. তরুণদের নিয়ে গর্বিত দেশ: যন্তর মন্তরসহ সারা দেশে চলা ছাত্র বিক্ষোভকে সমর্থন জানিয়ে রাহুল বলেন, “এটা কোনো রাগ, সহিংসতা বা ঘৃণার প্রকাশ ছিল না। এটি ছিল এ দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মনের গভীর উদ্বেগের প্রকাশ। বিজেপি সহ সমস্ত রাজনৈতিক দলের উচিত এই কণ্ঠস্বরকে সম্মান জানানো। যা ঘটেছে তাতে ভুল কিছু নেই, প্রতিটি ভারতীয়ের এতে গর্বিত হওয়া উচিত।”
২. যন্তর মন্তরের অভিজ্ঞতা ও ৩ রকমের মানুষের ব্যাখ্যা:
যন্তর মন্তরে এক আন্দোলনকারী ছাত্রীর সাথে নিজের কথোপকথন স্মরণ করিয়ে রাহুল বলেন, “একজন সত্যিকারের শিক্ষার্থীর সবচেয়ে বড় গুণ হলো বিনয়। সে স্বীকার করে যে সে সবকিছু জানে না। কিন্তু যারা মনে করে তারা সব বোঝে, তারা অহংকারী। তারা অন্যের সত্যিটাকে সম্মান করে না। ওই ছাত্রী আমাকে বলেছিল, এরা হলো ‘ইডিয়ট’। মূলত ৩ ক্যাটাগরির মানুষ আছে—শিক্ষার্থী (Students), ইডিয়ট (Idiots) এবং অন্ধভক্ত (Andh Bhakts)… আর এই অন্ধভক্তরাই ইডিয়টদের অন্ধের মতো অনুসরণ করে!”
৩. শিক্ষাব্যবস্থার ওপর আরএসএস-এর কব্জা:
কেন্দ্রকে বাণিজ্যিকীকরণের জন্য দায়ী করে রাহুল বলেন, “আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও নির্মম হয়ে উঠেছে। সরকারি শিক্ষা বাজেটের চেয়েও বেশি টাকা খরচ হয় একটা পরীক্ষা আয়োজন করতে! আরএসএস (RSS) পুরো শিক্ষাব্যবস্থার আত্মাটাকে কব্জা করে ফেলেছে।”
৪. অমিত শাহকে সরাসরি তোপ:
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিশানা করে রাহুল অভিযোগ করেন, “স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভয় পেয়েছেন, তাই তিনি আজ সংসদে উপস্থিত নেই। আমাদের ছাত্রদের ওপর গুলি চালানোর নির্দেশ উনিই দিয়েছিলেন। উনি আন্দোলনকারী ছাত্রদের রক্তে পেলেট ঢুকিয়ে দিয়েছেন।”
‘ইডিয়ট’ শব্দ নিয়ে সংসদে তুমুল হট্টগোল
রাহুল গান্ধীর মুখে “ইডিয়ট” (Idiot) শব্দটি শোনার পরপরই ট্রেজারি বেঞ্চের সাংসদরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন।
সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু তীব্র আপত্তি জানিয়ে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে নির্দেশ দেন যেন এই ‘অসংসদীয়’ শব্দটি সংসদের নথি বা রেকর্ড থেকে অবিলম্বে মুছে (Expunged) ফেলা হয়। রিজিজু বলেন, “বিরোধী দলনেতা সংসদে দাঁড়িয়ে এভাবে অসংসদীয় শব্দ প্রয়োগ করতে পারেন না।”
উল্লেখ্য: কেন্দ্র সরকার যে নতুন ‘পাবলিক এক্সামিনেশনস’ বিলটি এনেছে, সেখানে প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িত থাকা অপরাধীদের জন্য সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানার কঠোর শাস্তি প্রস্তাব করা হয়েছে।