দিল্লির আন্দোলনে ছররা গুলি চালানো নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য! তদন্তের পর এবার মুখ খুলল CRPF

দিল্লির কনট প্লেসে আন্দোলনকারী ছাত্রদের লক্ষ্য করে ছররা গুলি বা ‘পেলেট’ ছোঁড়ার ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল। এতে বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারী গুরুতর আহত হয়েছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম বিতর্কের সৃষ্টি হওয়ায় সিআরপিএফ (CRPF) একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত পরিচালনা করে। তদন্ত শেষে সমস্ত বিতর্ক ও নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছে বাহিনী।
বাহিনীর দাবি, গত ২০ জুলাই বিক্ষোভ সামলাতে যাবতীয় সরকারি নিয়ম বা স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (SOP) শতভাগ মেনে তবেই পেলেট গান ব্যবহার করা হয়েছে।
ধাপে ধাপে পদক্ষেপের পরেই পেলেট ফায়ার!
দিল্লির পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানার জেনারেল ডায়েরি (GD) রেকর্ড এবং সিআরপিএফ-এর তথ্য অনুযায়ী, সেদিন একলব্যে চরম পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ভিড় সামলাতে পর্যায়ক্রমে চারটি ধাপ অনুসরণ করা হয়েছিল:
প্রথমত: মাইক বা লাউডস্পিকারে বারবার বিক্ষোভকারীদের এলাকা খালি করার আবেদন জানানো হয়।
দ্বিতীয়ত: সেই আবেদনে কাজ না হওয়ায় কাঁদানে গ্যাস বা টিয়ার শেল ছোঁড়া হয়।
তৃতীয়ত: জনতা আরও উগ্র হয়ে উঠলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে লাঠিচার্জ করে পুলিশ।
চতুর্থত: প্রথম তিনটি পদক্ষেপ সম্পূর্ণ ব্যর্থ হওয়ার পর, দিল্লি পুলিশের একজন ডিসিপি (DCP) স্তরের অফিসারের স্পষ্ট নির্দেশে র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (RAF)-এর ডেপুটি কমান্ডার পদমর্যাদার এক জওয়ান অ্যান্টি-রায়ট গান থেকে দুই রাউন্ড প্লাস্টিক পেলেট ফায়ার করেন।
টিয়ার গ্যাস ও পেলেটের হিসাব
সিআরপিএফ এবং দিল্লি পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে মোট ৫৫টি নন-ইলেকট্রিক সেল, ১৫টি ইলেকট্রিক সেল, ৫টি টিয়ার গ্যাস গ্রেনেড এবং ২ রাউন্ড প্লাস্টিক পেলেট ছোঁড়া হয়েছিল। এই সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য রিপোর্ট আকারে খুব শীঘ্রই সুপ্রিম কোর্টে পেশ করতে চলেছে সিআরপিএফ।
দু’পক্ষেরই বহু আহত
ছররা গুলির ধাতব আঘাত সহ্য করতে না পেরে গুরুতর আহত অবস্থায় এখনও বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সূত্রের খবর, ৩ থেকে ৫ জন বিক্ষোভকারী গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি।
অন্যদিকে, সিআরপিএফ-এর দাবি অনুযায়ী, আন্দোলনকারীদের দিক থেকেও তীব্র আক্রমণ চালানো হয়েছিল। এতে র্যাফের (RAF) প্রায় ৪৭ জন জওয়ান আহত হয়েছেন, যাঁদের মধ্যে ৬ জনের মাথায় মারাত্মক আঘাত লেগেছে।