শুভেন্দুর সাথে হাইভোল্টেজ বৈঠক! পশ্চিমবঙ্গে ব্যবসার ঝাঁপি খুলতে চলেছে কাজাখস্তান

এবার ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে বাণিজ্যিক ও শিল্প সংক্রান্ত সহযোগিতা এক ধাক্কায় অনেকটা বাড়াতে গভীর আগ্রহ দেখাল মধ্য এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী দেশ কাজাখস্তান। মঙ্গলবার দেশটির রাষ্ট্রদূত ইয়েসকারায়েভ আজামাত স্পষ্টভাবে জানান, শুধু ভারত নয়, উত্তর-পূর্ব ভারত এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিশাল বাজারে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গকেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ‘প্রবেশদ্বার’ (Gateway) হিসেবে দেখছে তাঁদের সরকার।
মার্চেন্টস চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (MCCI) আয়োজিত একটি বিশেষ আলোচনাসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাষ্ট্রদূত আজামাত বলেন— ওষুধ শিল্প, খনিজ, জ্বালানি এবং উৎপাদন খাতের (Manufacturing Sector) মতো একাধিক মূল ধারার ক্ষেত্রে যৌথভাবে কাজ করতে চায় কাজাখস্তান। বাংলায় বিনিয়োগ ও নতুন ব্যবসার সম্ভাবনা সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যে মুখিয়ে রয়েছেন কাজাখস্তানের শীর্ষ উদ্যোক্তা ও শিল্পপতিরা।
কাজাখ রাষ্ট্রদূতের বার্তা: > “কাজাখস্তানে বর্তমানে ব্যবসা-বাণিজ্যের অত্যন্ত অনুকূল পরিবেশ রয়েছে। দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে আমরা ভারত সরকারের প্রতিনিধি, শীর্ষ শিল্পপতি, রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং শিক্ষাজগতের ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ বজায় রাখছি।”
রাজ্য রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে হাইভোল্টেজ বৈঠক
বাণিজ্যিক এই স্ট্র্যাটেজিক গুরুত্বকে বাস্তবে রূপ দিতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। রাষ্ট্রদূত জানান, আগামী সেপ্টেম্বর মাসেই কাজাখস্তানের একটি উচ্চপর্যায়ের ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল ভারত সফরে আসছে। এই বিশাল বিনিয়োগ পরিকল্পনা ও শিল্প সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার উদ্দেশ্যে এদিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে এক বিশেষ বৈঠকে বসছেন কাজাখস্তানের রাষ্ট্রদূত।
কেন ‘গেম চেঞ্জার’ হতে পারে এই উদ্যোগ? (অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ)
অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, চা, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, ওষুধ, ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য, চামড়া, রাসায়নিক, লজিস্টিকস, তথ্যপ্রযুক্তি (IT), ফিনটেক, শিক্ষা, পর্যটন এবং সবুজ বা গ্রিন এনার্জির মতো সম্ভাবনাময় ক্ষেত্রগুলোতে ভারত ও কাজাখস্তানের বাণিজ্য এখনও কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছায়নি।
পশ্চিমবঙ্গকে মূল কেন্দ্রবিন্দু (Hub) হিসেবে ব্যবহার করে কাজাখস্তান যদি তাদের বিনিয়োগ বাস্তবায়ন করে, তবে তা শুধু রাজ্যের অর্থনীতিতেই গতি আনবে না, বরং বিপুল কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত খুলে দেবে।