“পৃথিবীতে আগুন লাগিয়ে এক বালতি জল নিয়ে আসছে কেন্দ্র!” সংসদে দাঁড়িয়ে মোদী সরকারকে তুলোধোনা অভিষেকের!

দেশে লাগাতার প্রশ্নপত্র ফাঁস ও প্রশাসনিক ব্যর্থতা ঢাকার জন্যই কি নতুন আইন প্রণয়ন? মঙ্গলবার লোকসভায় ‘পাবলিক এক্সামিনেশনস (প্রিভেনশন অফ আনফেয়ার মিনস) অ্যামেন্ডমেন্ট বিল’-এর আলোচনায় অংশ নিয়ে কেন্দ্র সরকারকে চাঁছাছোলা ভাষায় আক্রমণ করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে পরীক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের নিরাপত্তার স্বার্থে এই বিলকে সমর্থন জানালেও, বিগত এক দশকে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার চরম বিপর্যয় নিয়ে মোদী সরকারকে তীক্ষ্ণ কটাক্ষ করেন তিনি।
🔥 ‘আইন বদলে ব্যর্থতা ধামাচাপা দেওয়া যায় না’
লোকসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে কেন্দ্র সরকারের নীতি ও প্রশাসনিক দক্ষতার তীব্র সমালোচনা করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন:
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য: “সরকার প্রথমে পুরো পৃথিবীতে আগুন লাগিয়েছে, আর এখন এক বালতি জল নিয়ে এসে ক্রেডিট নিতে চাইছে! ফলে তাদের জন্য হাততালি দেওয়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। এই সরকার একটা শিল্পেই পারদর্শী—যখনই তাদের শাসনের ব্যর্থতা সামনে আসে, তারা আইন বদলে দেয়। কিন্তু শাসন পরিচালনা কেবল পত্রিকার হেডলাইন দেখে হয় না, ফলাফল দিয়ে বিচার হয়।”
তিনি আরও ক্ষোভের সাথে যোগ করেন, গত এক দশকে দেশে প্রশ্নপত্র ফাঁস আর নিছক কোনো দুর্ঘটনা নেই, এটাকে এক প্রকার ‘সুসংগঠিত সিস্টেমে’ পরিণত করা হয়েছে।
🕵️♂️ ‘সিবিআই তদন্তের নামে কেবল সময় নষ্ট’
বক্তব্যে ২০১৪ সাল থেকে সংগঠিত একাধিক সর্বভারতীয় প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা (যেমন—NEET, UGC-NET)-র অনিয়মের খতিয়ান তুলে ধরেন তৃণমূল সাংসদ। তিনি বেশ কিছু মারাত্মক অভিযোগ তোলেন:
-
একের পর এক প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা ঘটলেও দোষীদের শাস্তির হার প্রায় শূন্য।
-
কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (CBI বা ED)-কে দিয়ে তদন্তের নামে কেবল সময় নষ্ট করা হচ্ছে।
-
ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্টের কথা বলা হলেও বিচার প্রক্রিয়ায় তদন্তকারী সংস্থাগুলির গাফিলতি পুরো ব্যবস্থাকে প্রহসনে পরিণত করেছে।
🛡️ ‘পরীক্ষার্থীরা শত্রু নয়, আলোচনার বদলে ব্যারিকেড কেন?’
দেশজুড়ে প্রশ্ন ফাঁসের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে নামা পরীক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি বলপ্রয়োগ ও লাঠিচার্জ নিয়েও সুর চড়ান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দেশের তরুণেরা যখন সততা ও নিজেদের মেধার অধিকার চাইতে রাজপথে নামছে, তখন সরকার আলোচনার টেবিল ছেড়ে ব্যারিকেড, টিয়ার গ্যাস আর পুলিশ পাঠিয়ে তাদের মুখ বন্ধ করতে চাইছে। বর্তমান সরকার প্রতিটি ন্যায্য প্রতিবাদকে ষড়যন্ত্র আর প্রতিটি শিক্ষার্থীকে ‘শত্রু’ হিসেবে ভাবছে বলে মারাত্মক অভিযোগ করেন তিনি।