নিট আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশি হামলা! অমিত শাহের ক্ষমা ও পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল সংসদ

ছাত্রবিক্ষোভে পুলিশি ‘দমনপীড়ন’-এর প্রতিবাদে সোমবরের পর মঙ্গলবারও উত্তাল হয়ে উঠল সংসদ ভবন। নিট-আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশি পদক্ষেপের দায় স্বীকার করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে ক্ষমা চাওয়ার দাবিতে সংসদের ভিতরে ও বাইরে সুর চড়ালেন বিরোধী সাংসদরা। বিরোধীদের তীব্র হইহট্টগোল ও শোরগোলের জেরে মঙ্গলবার দুপুর ২টো পর্যন্ত স্থগিত করে দেওয়া হয় লোকসভা এবং রাজ্যসভা— উভয় কক্ষের অধিবেশনই।
ছররা গুলি ও ‘র্যাফ’-এর ভূমিকা নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রককে তোপ
পরীক্ষার্থীদের আন্দোলনে বলপ্রয়োগের ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু থেকেই পুলিশ ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে বিরোধী জোট। গত ২০ জুলাই ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র সংসদ অভিযান কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দিল্লির বিভিন্ন জায়গায় সিআরপিএফ-এর অধীনস্থ ‘র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স’ (RAF) মোতায়েন করা হয়েছিল। অভিযোগ, পড়ুয়াদের ‘শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ’ ভেস্তে দিতে বিক্ষোভকারীদের ওপর ছররা গুলি বা পেলেট গান ব্যবহার করেছে পুলিশ ও আধাসেনা। দিল্লি পুলিশের এই পদক্ষেপে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের প্রত্যক্ষ মদত রয়েছে দাবি করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ইস্তফা ও জবাবদিহির দাবিতে মঙ্গলবার সকাল থেকেই সরব হন বিরোধীরা।
বিলে আলোচনার আগেই স্তব্ধ কক্ষ
পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস রুখতে কেন্দ্রের আনা কড়া আইনি সংশোধনী বিলটি নিয়ে মঙ্গলবার লোকসভায় আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অধিবেশন শুরু হতেই বিরোধীদের বিক্ষোভে মূল আলোচনা ভেস্তে যায়। অন্যদিকে, পাঞ্জাবে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে হাতিয়ার করে সংসদ চত্বরে পাল্টা ধর্নায় বসেন শাসকজোট এনডিএ-র সাংসদেরা। আম আদমি পার্টি (AAP) শাসিত পাঞ্জাবের শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফা এবং আপ প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়ালের স্পষ্ট জবাবের দাবিতে স্লোগান তোলেন তাঁরা। এনডিএ-র এই বিক্ষোভ মিছিলে অগ্রণী ভূমিকায় দেখা যায় পশ্চিমবঙ্গ থেকে নির্বাচিত বিজেপির দুই রাজ্যসভা সাংসদ সুস্মিতা দেব ও রাহুল সিনহাকে।
উভয় পক্ষের তুমুল হট্টগোল ও সংসদীয় অচলাবস্থার জেরে শেষ পর্যন্ত দুপুর ২টো পর্যন্ত মুলতুবি করে দিতে বাধ্য হয় সংসদের দুই কক্ষের অধিবেশন।